বাংলাদেশে হিন্দু সম্প্রদায়ের অধিকার, নিরাপত্তা, মর্যাদা ও ন্যায়বিচারের প্রশ্নে দীর্ঘদিন ধরে নানা দাবি-দাওয়া ও আন্দোলন হয়ে আসছে। কিন্তু দুঃখজনকভাবে, কিছু নেতৃত্বের ভূমিকা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে—কেউ কেউ ধর্মীয় পরিচয় ও সম্প্রদায়ের আবেগকে ব্যবহার করে রাজনৈতিক সুবিধা, ব্যক্তিগত পরিচিতি, পদ-পদবি কিংবা নিজস্ব স্বার্থ হাসিলের চেষ্টা করেন।
রাজপথে উচ্চস্বরে বক্তব্য দেওয়া, গণমাধ্যমে নিজেদের হিন্দুদের অধিকার রক্ষার মুখপাত্র হিসেবে উপস্থাপন করা কিংবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বড় বড় কথা বলা—এসবই নেতৃত্বের একমাত্র পরিচয় হতে পারে না। নেতৃত্বের প্রকৃত পরিচয় হলো সংকটের সময়ে মানুষের পাশে দাঁড়ানো, অন্যায়ের বিরুদ্ধে ধারাবাহিকভাবে কথা বলা এবং ব্যক্তিস্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে সম্প্রদায়ের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠায় কাজ করা।
যারা একদিকে হিন্দুদের অধিকার নিয়ে সোচ্চার হওয়ার দাবি করেন, অথচ অন্যদিকে ক্ষমতাসীন বা প্রভাবশালী রাজনৈতিক শক্তির সঙ্গে ব্যক্তিগত সুবিধার সম্পর্ক বজায় রাখেন—তাদের রাজনৈতিক ভূমিকা ও স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা স্বাভাবিক।
হিন্দু সম্প্রদায় কারও রাজনৈতিক সিঁড়ি নয়।
হিন্দুদের ধর্মীয় অনুভূতি কারও ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়।
হিন্দুদের অধিকার কারও ব্যক্তিগত দর-কষাকষির বিষয় নয়।
আমরা এমন নেতৃত্ব চাই না, যারা পরিস্থিতি বুঝে অবস্থান পরিবর্তন করেন। আমরা এমন নেতৃত্ব চাই না, যারা মানুষের আবেগকে ব্যবহার করে নিজেদের পরিচিতি ও স্বার্থ প্রতিষ্ঠা করেন। আমরা এমন নেতৃত্ব চাই, যারা ক্ষমতার সামনে মাথা নত না করে ন্যায়, আইনের শাসন, সমঅধিকার ও নাগরিক মর্যাদার প্রশ্নে স্পষ্ট অবস্থান গ্রহণ করবেন।
চামচামি নয়—জবাবদিহি চাই।
ব্যক্তিস্বার্থ নয়—জনস্বার্থ চাই।
নেতৃত্বের প্রদর্শন নয়—বাস্তব কাজ চাই।
রাজনৈতিক লেজুড়বৃত্তি নয়—নীতিনিষ্ঠ নেতৃত্ব চাই।
হিন্দু সম্প্রদায়ের অধিকার আদায়ের আন্দোলন কোনো ব্যক্তি, দল বা গোষ্ঠীর ব্যক্তিগত সম্পদ নয়। এই আন্দোলন হতে হবে স্বচ্ছ, গণতান্ত্রিক, জবাবদিহিমূলক এবং জনগণের অংশগ্রহণভিত্তিক।
যারা সত্যিই হিন্দুদের অধিকার নিয়ে কাজ করেন, তাদের কর্মকাণ্ড মানুষের সামনে স্পষ্ট থাকুক। আর যারা ব্যক্তিস্বার্থকে সম্প্রদায়ের স্বার্থের ওপরে স্থান দেন, তাদেরও জনগণের কাছে জবাবদিহি করতে হবে।
সময় এসেছে মুখোশের রাজনীতি বন্ধ করে প্রকৃত জনসেবার রাজনীতি প্রতিষ্ঠা করার।
হিন্দুদের অধিকার নিয়ে আর কোনো আপস নয়—অধিকার, নিরাপত্তা, মর্যাদা ও ন্যায়বিচারের প্রশ্নে চাই স্পষ্ট ও নীতিনিষ্ঠ অবস্থান।