মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখানে তোয়াবা (৪) নামে এক শিশুর গলাকাটা ও চোখ উপড়ানো মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় গুরুতর আহত শিশুটির বাবা গোলাপ হোসেনও (৩৫) ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন।
জমিজমা নিয়ে পূর্ব বিরোধের জেরে বাবা ও মেয়ের ওপর হামলা চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে পরিবার।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সকাল ৯টার দিকে উপজেলার লতব্দী ইউনিয়নের রামকৃষ্ণদী গ্রামের মোল্লা ব্রিকস ইটভাটার কাছে একটি পরিত্যক্ত জমি থেকে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নিহত শিশুর বাবার নাম গোলাপ হোসেন (৩৫)। তার স্ত্রী শিউলি বেগম। গোলাপ হোসেনের বাড়ি রামকৃষ্ণদী গ্রামে হলেও তিনি স্ত্রী-সন্তান নিয়ে একই ইউনিয়নের দোসরপাড়া গ্রামে শ্বশুরবাড়িতে বসবাস করতেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার (২৮ অক্টোবর) বিকালে তওবা তার বাবার সঙ্গে দাদার বাড়িতে গিয়েছিল। সেখান থেকে ফেরার পথে বাবা-মেয়ের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ পরিবারের। পরে রক্তাক্ত অবস্থায় গোলাপ হোসেন বাড়িতে ফিরে এলেও তওবার কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। আজ সকালে ইটভাটার কাছে পরিত্যক্ত জমিতে শিশুটির মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে পুলিশকে খবর দেয়া হয়।
পরে জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। শিশুটির শরীরে গুরুতর আঘাতের চিহ্ন ছিল। তার চোখ উপড়ানো ও গলাকাটার অভিযোগও পাওয়া গেছে।
এদিকে গুরুতর আহত গোলাপ হোসেনকে প্রথমে ঢাকার কেরানীগঞ্জের আব্দুল্লাপুর এলাকার স্বদেশ হাসপাতালে নেয়া হয়। পরে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে বৃহস্পতিবার দুপুর দেড়টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
প্রাথমিকভাবে তার শরীরে ধারালো অস্ত্রের আঘাত ও বিষক্রিয়ার বিষয়টি মৃত্যুর কারণ বলে পুলিশের ধারণা।
নিহত শিশুর মা শিউলি বেগম অভিযোগ করেন, প্রতিবেশী সোহরাবসহ কয়েকজনের সঙ্গে তাদের জমিজমা নিয়ে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে মামলাও রয়েছে। ওই বিরোধের জের ধরে তার স্বামী ও মেয়ের ওপর হামলা চালানো হয়ে থাকতে পারে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
সিরাজদিখান সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মো. আনোয়ার পারভেজ জানান, শিশুটির মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য একাধিক ব্যক্তিকে থানায় নেয়া হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে তদন্ত চলছে।
তবে কারা এবং কী কারণে বাবা-মেয়ের ওপর হামলা চালিয়েছে, তা তদন্তের আগে নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।