আধ্যাত্মিক গুরু প্রেমানন্দ মহারাজের আশ্রমে যেতে বিরাট কোহলিকে ৫ কোটি টাকা দেয়া হয়েছিল, এমন অভিযোগ উঠেছিল। সেই দাবি সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে কোহলির পক্ষ। তার মুখপাত্রের দেয়া বিবৃতিতে অভিযোগটিকে ‘সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও তথ্যগতভাবে ভুল’ বলে দাবি করা হয়েছে।
বৃন্দাবনের রাধা কেলি কুঞ্জ আশ্রমে এক শিষ্যের রহস্যজনক মৃত্যুকে ঘিরে প্রেমানন্দ মহারাজকে নিয়ে বিতর্কের মধ্যেই কোহলিকে ঘিরে এই অভিযোগ সামনে আসে। শ্রীকৃষ্ণ জন্মভূমি সংগ্রাম ন্যাসের সভাপতি ফালাহারি মহারাজ দাবি করেন, আধ্যাত্মিক গুরুর জনপ্রিয়তা বাড়ানোর প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে কোহলিকে তার আশ্রমে নিয়ে যেতে ৫ কোটি টাকা দেওয়া হয়েছিল।
তবে এই অভিযোগ অস্বীকার করে কোহলির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ‘বিরাট কোহলিকে নিয়ে ফালাহারি মহারাজ দীনেশ শর্মার করা দাবিগুলো সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন এবং তথ্যগতভাবে ভুল। এ কথা আমরা স্পষ্টভাবে জানাতে চাই ‘
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘বিরাট কোহলি শুধুমাত্র তার গভীর বিশ্বাস ও প্রেমানন্দ মহারাজের প্রতি শ্রদ্ধা থেকেই আশ্রমে যান। আমরা এসব দাবি দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করছি। গণমাধ্যমের প্রতি অনুরোধ, এ ধরনের বক্তব্য প্রকাশ বা প্রচারের আগে যথাযথভাবে তথ্য যাচাই করুন এবং দায়িত্বশীলতার সঙ্গে সংবাদ প্রকাশ করুন।’
তবে কোহলি বা তার স্ত্রী, অভিনেত্রী আনুশকা শর্মা আশ্রমে যাওয়ার জন্য ওই অর্থ পেয়েছিলেন কি না এমন দাবির পক্ষে এখন পর্যন্ত কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
উল্লেখ্য, বিরাট কোহলি ও তার স্ত্রী আনুশকা শর্মার বৃন্দাবন সফর অবশ্য নতুন কিছু নয়। দীর্ঘদিন ধরেই তারা নিয়মিত সেখানে আধ্যাত্মিক আশ্রমে যাতায়াত করছেন। ২০২৩ সালের জানুয়ারিতে নিম করোলি বাবা আশ্রম ও মা আনন্দময়ী আশ্রমে পরিদর্শন করেন, যা সেই সময়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছিল।
পরবর্তীতে একাধিকবার প্রেমানন্দ মহারাজের শ্রী রাধা কেলি কুঞ্জ আশ্রমে যান এই দম্পতি। ২০২৫ ও ২০২৬; এই সময়েও তাদের বৃন্দাবন সফর সংবাদমাধ্যমে শিরোনাম হয়। বিশেষ করে ২০২৫ সালের মে মাসে কোহলি টেস্ট ক্রিকেট থেকে অবসরের ঘোষণা দেওয়ার পরপরই তাদের বৃন্দাবন সফর নজর কেড়েছিল।
ফালাহারি মহারাজ মথুরার কৃষ্ণ জন্মভূমি আন্দোলনের সঙ্গে জড়িত এবং তার বিতর্কিত মন্তব্যের কারণে আগেও সংবাদের শিরোনামে এসেছেন। ২০২৫ সালের মার্চে মহারাষ্ট্রে আওরঙ্গজেবের সমাধি ভাঙার জন্য ২১ লাখ রুপি পুরস্কার ঘোষণা করে বিতর্ক উসকে দিয়েছিলেন তিনি। একই বছর মথুরায় অভিনেত্রী সানি লিওনকে নিয়ে একটি নববর্ষের অনুষ্ঠান আয়োজনের তীব্র বিরোধিতা করেছিলেন ফালাহারি, যার মুখ পড়ে শেষ পর্যন্ত অনুষ্ঠানটি বাতিল করতে হয়।