বন্ধু কামাল হোসেনের জানাজায় প্রদীপ সরকার, চোখের জলে শেষ বিদায়

ডেস্ক: জানাজার কাতারে অন্য সবার সঙ্গে নীরবে দাঁড়িয়ে ছিলেন প্রদীপ সরকার। সনাতন ধর্মাবলম্বী হলেও প্রিয় বন্ধু কামাল হোসেন বাবুলের শেষ বিদায়ে উপস্থিত হতে কোনো দ্বিধা ছিল না তার। চোখে ছিল অশ্রু, মুখে কোনো কথা নেই—শুধু বন্ধুর জানাজায় নীরবে দাঁড়িয়ে থেকে শেষ শ্রদ্ধা জানান তিনি। বাংলাটিভি লাইভ

চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলার দোয়াটি গ্রামের প্রদীপ সরকারের সঙ্গে একই উপজেলার দহুলিয়া গ্রামের কামাল হোসেন বাবুলের বন্ধুত্ব ছিল দীর্ঘদিনের। ধর্মীয় পরিচয় তাদের সম্পর্কে কখনো বাধা হয়ে দাঁড়ায়নি। জীবনের নানা মুহূর্তে একে অন্যের সুখ-দুঃখের সঙ্গী ছিলেন তারা। আড্ডা, হাসি-আনন্দ থেকে শুরু করে বিপদের সময়ও পাশে থেকেছেন পরস্পরের।

তবে বুধবার রাতে সেই বন্ধুত্বে নেমে আসে শোকের ছায়া। অসুস্থতাজনিত কারণে রাত ১১টার দিকে মারা যান কামাল হোসেন বাবুল। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৫৫ বছর। তিনি স্ত্রী, তিন ছেলে ও এক মেয়ে রেখে গেছেন।

বন্ধুর মৃত্যুসংবাদ পাওয়ার পর ভেঙে পড়েন প্রদীপ সরকার। পরদিন বৃহস্পতিবার বাবুলের জানাজায় অংশ নিতে ছুটে যান তিনি। জানাজার মাঠে তখন স্বজন, প্রতিবেশী, বন্ধু-বান্ধব ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের উপস্থিতিতে ভিড়।

সবার ভিড়ের মধ্যেও প্রদীপের উপস্থিতি ছিল আলাদা। প্রিয় বন্ধুর নিথর দেহের দিকে তাকিয়ে কখনো চুপচাপ দাঁড়িয়ে ছিলেন, আবার কখনো চোখের পানি মুছছিলেন তিনি। ধর্মের ভিন্নতা ছাপিয়ে বন্ধুর প্রতি তার এই ভালোবাসা উপস্থিত অনেকের মন ছুঁয়ে যায়।

কামাল হোসেন বাবুলের জানাজায় প্রদীপ সরকারের উপস্থিতি তাই শুধু বন্ধুকে শেষবারের মতো বিদায় জানানোর ঘটনা নয়; এটি হয়ে উঠেছে ধর্মীয় সম্প্রীতি, মানবিকতা ও দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বের এক আবেগঘন দৃষ্টান্ত।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *