বানারীপাড়া প্রতিনিধি: বরিশালের বানারীপাড়া উপজেলার উদয়কাঠী ইউনিয়নের তেতলা গ্রামে সংখ্যালঘু পরিবারের ২০ শতাংশ পৈতৃক সম্পত্তি জোরপূর্বক লিখে নিয়ে দখলের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় হুমায়ুন গাজীর বিরুদ্ধে।
ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, ক্ষমতার প্রভাব ও ভয়ভীতি দেখিয়ে তাদের পূর্বপুরুষের সম্পত্তি লিখে নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে নিরাপত্তাহীনতার কারণে পরিবারটি ওই এলাকা ছেড়ে নেছারাবাদ উপজেলার মাদ্রা এলাকায় বসবাস করছে বলে জানিয়েছে।
ভুক্তভোগী নারায়ণ চন্দ্র সিকদারের (৭৭) মেয়ে অঞ্জনা সিকদার অভিযোগ করে বলেন, তেতলা ও হারতা এলাকার সীমান্তবর্তী স্থানে তাদের পরিবারের ২০ শতাংশ পৈতৃক সম্পত্তি ছিল। এটি ছিল তাদের পূর্বপুরুষের শেষ সম্বল। তার অভিযোগ, হুমায়ুন গাজী বিভিন্ন কৌশলের আশ্রয় নিয়ে তার বাবা নারায়ণ চন্দ্র সিকদারের কাছ থেকে ওই সম্পত্তি লিখে নেন। তবে সম্পত্তির বিনিময়ে কোনো অর্থ দেওয়া হয়নি বলেও দাবি করেন তিনি।
অঞ্জনা সিকদারের দাবি, জমি লিখে নেওয়ার পর তাদের পরিবারকে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি দেখিয়ে এলাকা ছাড়তে বাধ্য করা হয়। পরবর্তীতে তারা সম্পত্তি ফেরত অথবা ন্যায্য মূল্য দাবি করলে হুমায়ুন গাজী তাদের হুমকি দিতে থাকেন। এমনকি তারা নেছারাবাদ উপজেলার মাদ্রা এলাকায় চলে যাওয়ার পরও সেখানে গিয়ে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
অঞ্জনা আরও বলেন, আগের সরকারের সময়ে বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়ভাবে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছে অভিযোগ করেও তারা কোনো প্রতিকার পাননি। বর্তমানে তারা তাদের পৈতৃক সম্পত্তি ফিরে পেতে চান। সম্পত্তি ফেরত দেওয়া সম্ভব না হলে এর ন্যায্য মূল্য পরিশোধের দাবি জানিয়েছেন তারা।
অঞ্জনা সিকদার বলেন, “আমরা হুমায়ুন গাজীর হাত থেকে মুক্তি চাই। আমাদের পৈতৃক সম্পত্তি ফেরত চাই, অথবা সম্পত্তির ন্যায্য মূল্য চাই।”
এদিকে হুমায়ুন গাজীর বিরুদ্ধে স্থানীয়ভাবে জমি দখল ও মাদক ব্যবসাসহ বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে বলেও দাবি করেছে ভুক্তভোগী পরিবার। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
অভিযোগের বিষয়ে হুমায়ুন গাজীর বক্তব্য জানতে তার মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়। ফলে এ বিষয়ে তার বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।
ভুক্তভোগী পরিবারটি অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত, তাদের পৈতৃক সম্পত্তি উদ্ধারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছে।