ফরিদপুরে আগুনে পুড়ল ৮ পাটের গুদাম, দুই কোটি টাকার ক্ষতি দাবি

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে অন্তত আটটি পাটের গুদাম ও কয়েকটি দোকান পুড়ে গেছে। গুদামগুলোতে মজুত প্রায় তিন হাজার মণ পাটসহ বিভিন্ন মালামাল পুড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের দাবি, ক্ষতির পরিমাণ আনুমানিক দুই কোটি টাকা। তবে ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত পরিমাণ এখনো নির্ধারণ করা হয়নি।

শনিবার (২৪ অক্টোবর) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে উপজেলার বুড়াইচ ইউনিয়নের ফলিয়া বাজারে এ অগ্নিকাণ্ড ঘটে। খবর পেয়ে আলফাডাঙ্গা ও বোয়ালমারী ফায়ার সার্ভিসের চারটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রায় দুই ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সন্ধ্যায় বাজারের একটি পাটের গুদামে আগুন দেখতে পান লোকজন। মুহূর্তের মধ্যে আগুন আশপাশের গুদাম ও দোকানে ছড়িয়ে পড়ে। এতে অন্তত আটটি পাটের গুদাম, একটি চায়ের দোকান ও দুটি কাঁচামালের দোকান পুড়ে যায়। আগুনের তীব্রতায় গুদামে মজুত পাটসহ বিভিন্ন মালামাল রক্ষা করা সম্ভব হয়নি।

ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের মধ্যে রয়েছেন মাসুদ মন্ডল, ইমরুল ফকির ও সাবেক ইউপি সদস্য ফিরোজ। তাদের দাবি, অগ্নিকাণ্ডে প্রায় তিন হাজার মণ পাট পুড়ে গেছে। গুদাম ও দোকানের মালামাল মিলিয়ে ক্ষতির পরিমাণ আনুমানিক দুই কোটি টাকা।

বাজারের ব্যবসায়ী কাশেম মন্ডল বলেন, সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে একটি পাটের গুদামে আগুন দেখতে পান স্থানীয়রা। পরে দ্রুত আগুন আশপাশের গুদাম ও দোকানে ছড়িয়ে পড়ে। এতে বিপুল পরিমাণ পাট নষ্ট হয়েছে।

ফরিদপুর ফায়ার সার্ভিসের উপসহকারী পরিচালক সোহেল রানা জানান, খবর পেয়ে আলফাডাঙ্গা ও বোয়ালমারী ফায়ার সার্ভিসের চারটি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। প্রায় দুই ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। এর আগেই বেশ কয়েকটি গুদাম ও দোকান পুড়ে যায়। তবে কিছু মালামাল রক্ষা করা সম্ভব হয়েছে।

বোয়ালমারী ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন মাস্টার রয়েল আহমেদ বলেন, বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে। তবে আগুন লাগার প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে, অগ্নিকাণ্ডের তদন্ত করা হচ্ছে। পাশাপাশি ক্ষয়ক্ষতির সঠিক পরিমাণ নিরূপণের কাজ চলছে।

ভয়াবহ এ অগ্নিকাণ্ডে ফলিয়া বাজারের পাট ব্যবসায়ীরা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। গুদামে মজুত পাট ও দোকানের মালামাল হারিয়ে তারা সংকটে পড়ার আশঙ্কা করছেন। ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা কামনা করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *