স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম দুর্গাপূজায় ছিল যুদ্ধের ক্ষত ও স্বজন হারানোর বেদনা

১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের পর স্বাধীন বাংলাদেশে হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রথম দুর্গাপূজায় উৎসবের আমেজের পাশাপাশি ছিল যুদ্ধের ক্ষত, স্বজন হারানোর বেদনা ও সর্বস্ব হারানোর স্মৃতি। ১৯৭২ সালের ১৪ অক্টোবর প্রকাশিত বাংলার বাণী পত্রিকার এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে সেই সময়ের দুর্গাপূজার চিত্র।

প্রতিবেদনে বলা হয়, একসময় দুর্গাপূজার আগমনে বাংলার আকাশ-বাতাস আনন্দ ও উৎসবের আবহে মুখরিত হয়ে উঠত। কিন্তু মুক্তিযুদ্ধের ভয়াবহতা সেই চিরচেনা আনন্দকে অনেকটাই ম্লান করে দিয়েছিল।

মুক্তিযুদ্ধের সময় প্রাণ বাঁচাতে অর্ধকোটিরও বেশি হিন্দুকে ভারতে আশ্রয় নিতে হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। অনেকে সর্বস্ব হারিয়েও দেশকে স্বাধীন করার প্রত্যয়ে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেন। আবার যারা ভারতে যেতে পারেননি, তাদের অনেকেই গ্রামাঞ্চলে আত্মগোপন করে জীবন কাটান। ফলে ১৯৭১ সালে স্বাভাবিক পরিবেশে দুর্গাপূজা উদযাপন করা সম্ভব হয়নি।

স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালে যারা ভারতে আশ্রয় নেওয়ার পর দেশে ফিরে এসেছিলেন, তারা আবারও দুর্গাপূজার আয়োজন করেন। তবে সেই উৎসবে আগের মতো উচ্ছ্বাস ও আড়ম্বর ছিল না। যুদ্ধের ভয়াবহতায় প্রাণহানির পাশাপাশি স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি হারিয়ে হিন্দু সম্প্রদায়ের একটি বড় অংশ নিঃস্ব হয়ে পড়েছিল।

প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, রাজধানী ঢাকার মতো শহরেও সে সময় দুর্গাপূজায় তেমন আড়ম্বর দেখা যায়নি। যুদ্ধের ক্ষত তখনও ছিল তাজা, আর বহু পরিবার প্রিয়জন হারানোর শোক বয়ে বেড়াচ্ছিল।

স্বাধীন বাংলাদেশের মাটিতে ১৯৭২ সালের দুর্গাপূজা তাই ছিল একদিকে নতুন স্বাধীনতার আনন্দ, অন্যদিকে যুদ্ধের ক্ষত ও স্বজন হারানোর গভীর বেদনার এক ঐতিহাসিক স্মারক।

সৌজন্যে: গিরিধর দে / বাদুছস

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *