সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি: ধর্মীয় সম্প্রীতি ও আন্তঃধর্মীয় সহাবস্থানের এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন সিরাজগঞ্জের ৭৪ বছর বয়সী জহির শেখ। প্রায় তিন দশক ধরে তিনি সিরাজগঞ্জ পৌর এলাকার গয়লা মহল্লায় যমুনা নদীর তীরে অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী ঘুড়কা মহাশ্মশান ও শ্রী শ্রী কালীমাতা মন্দিরের নিরাপত্তা প্রহরীর দায়িত্ব পালন করে আসছেন।
জহির শেখ মুসলিম ধর্মাবলম্বী। নিয়মিত পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায়ের পাশাপাশি দীর্ঘদিন ধরে হিন্দু সনাতন ধর্মাবলম্বীদের এই উপাসনালয় ও মহাশ্মশানের নিরাপত্তা এবং পবিত্রতা রক্ষার দায়িত্ব পালন করছেন তিনি।
স্থানীয়দের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ৬০০ বছরের পুরোনো এই কেন্দ্রীয় মহাশ্মশানে বছরের বিভিন্ন সময়ে কালীপূজা, শিব চতুর্দশী ও লোকনাথের আবির্ভাব উৎসবসহ নানা ধর্মীয় আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়। এসব অনুষ্ঠানে ভক্তদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি মরদেহের সৎকারের সময়ও দায়িত্ব পালন করেন জহির শেখ।
জানা যায়, ১৯৯৬ সালে সিরাজগঞ্জ পৌরসভা থেকে আব্দুল মমিন ও জহির শেখ নামে দুই মুসলিম ব্যক্তিকে নৈশপ্রহরী হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। প্রায় দুই বছর আগে আব্দুল মমিন মারা যাওয়ার পর থেকে জহির শেখ একাই ওই মহাশ্মশান ও মন্দিরের নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করে আসছেন।
স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে দায়িত্ব পালনের সময় জহির শেখ অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে মন্দিরের পরিবেশ ও ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য বজায় রাখার চেষ্টা করেন। স্বল্প বেতনের এই চাকরি দিয়ে সংসার চালানো কঠিন হলেও স্থানীয় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে দীর্ঘদিনের সম্পর্ক ও আন্তরিকতার কারণে তিনি দায়িত্বটি নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করে যাচ্ছেন।
মন্দির কমিটির নেতৃবৃন্দ ও পুরোহিতরা জহির শেখের দায়িত্বশীলতা, নিষ্ঠা এবং ভিন্ন ধর্মের মানুষের প্রতি শ্রদ্ধাবোধের প্রশংসা করেছেন।
স্থানীয়দের মতে, দীর্ঘদিন ধরে একই স্থানে দায়িত্ব পালন করা জহির শেখের এই ভূমিকা ধর্মীয় সহনশীলতা, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সামাজিক সম্প্রীতির একটি ইতিবাচক উদাহরণ হয়ে উঠেছে।