গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার এবং গ্যাস, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও সারের সংকট নিরসনসহ সাত দফা দাবিতে গত ৫ সেপ্টেম্বর ঢাকা-চট্টগ্রাম এবং ১৯ সেপ্টেম্বর ঢাকা-রংপুর মহাসড়কে লংমার্চ করেছে বিরোধী জোট।
তবে সরকারের টনক না নড়ায় সেই একই দাবিতে আগামী ৩১ অক্টোবর ঢাকা-খুলনা রুটে লংমার্চের প্রস্তুতি নিচ্ছেন তারা।
বিরোধীদের হুঁশিয়ারি, সাত দফা দাবি পূরণ না হলে কর্মসূচি সীমাবদ্ধ থাকবে না বিভাগীয় শহরে। প্রয়োজনে আন্দোলন ছড়িয়ে দেয়া হবে দেশের অন্যান্য মহানগর, জেলা ও উপজেলা পর্যায়েও।
এ বিষয়ে ১১ দলীয় ঐক্যের প্রধান সমন্বয়ক হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, ‘আমরা আন্দোলন আরও জোরদার করব এবং জনগণকে সংগঠিত করব। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত ঐক্যবদ্ধভাবে আমাদের আন্দোলন চালিয়ে যাব।’
সরকারের এক বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই কেন লংমার্চ, সমালোচকদের এমন প্রশ্নের জবাবে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার জানান, ‘এই দাবির পক্ষে জনমত গঠন এবং সরকারের বিশ্বাসভঙ্গের ঘটনাগুলো তুলে ধরতেই লাখ লাখ মানুষ রাস্তায় সমবেত হচ্ছেন। আমরা এসব ঘটনা জনগণের সামনে তুলে ধরব। এটি একটি গণতান্ত্রিক ও দায়িত্বশীল বিরোধী দলের ভূমিকা।’
বিরোধী দলের আন্দোলনে রাজনৈতিক সংকট তৈরি হলে সরকারকেই সেই দায় নিতে হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, ‘জনগণের এই দাবি মেনে নেওয়া না হলে দিন যত গড়াবে এবং মানুষের দুর্ভোগ যত বাড়বে, রাজনৈতিক সংকটও তত গভীর হবে। শেষ পর্যন্ত কী পরিস্থিতি তৈরি হবে, তা এখনই বলতে পারছি না। আগামী ৯ নভেম্বর সংসদের অধিবেশন শুরু হবে। আমি মনে করি, এই আন্দোলনকে রাজপথের দিকে ঠেলে না দিয়ে সংসদেই বিষয়টির নিষ্পত্তি করা উচিত।’
দাবি আদায়ের এই কর্মসূচির মাধ্যমে সরকারের বোধোদয় হবে এবং জনগণের কল্যাণে উপযুক্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে, এমন প্রত্যাশাও জানান লংমার্চ বাস্তবায়ন কমিটির আহ্বায়ক।