ইতালি পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে অর্থ গ্রহণ, পরে লিবিয়ায় পাঠিয়ে আটক এবং মুক্তিপণ দাবির পাশাপাশি শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় মো. আবুল হোসেন (৬৯) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) রাত ৭টার দিকে গাজীপুর জেলার কাপাসিয়া থানাধীন কাড়িহাতা গ্রামে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার আবুল হোসেন কাড়িহাতা গ্রামের বান্দুমিয়ার ছেলে।
মামলার অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, বাদিনীকে ইতালি পাঠানোর কথা বলে আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে বিভিন্ন সময়ে তার কাছ থেকে মোট ২৫ লাখ ৯৫ হাজার টাকা গ্রহণ করেন। পরে ২০২৪ সালের ১২ জুন তাকে লিবিয়ায় পাঠানো হয় বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, লিবিয়ায় পৌঁছানোর পর মানব পাচার চক্রের সহযোগীরা বাদিনীকে একটি স্থানে আটকে রাখে। সেখানে তাকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করা হয় এবং তার পরিবারের কাছে ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। মুক্তিপণের টাকা দিতে না পারায় তাকে আরও নির্যাতন করা হয়েছে বলে বাদিনী অভিযোগ করেন।
একপর্যায়ে সুযোগ বুঝে বাদিনী আটকস্থান থেকে পালিয়ে অন্যত্র আশ্রয় নেন। পরে লিবিয়া পুলিশ তাকে আটক করে। এরপর ২০২৪ সালের ১৬ অক্টোবর তাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হয়।
এ ঘটনায় বাদিনী ২০২৫ সালের ২১ সেপ্টেম্বর ঢাকার মিরপুর মডেল থানায় মামলা করেন। মামলাটির নম্বর ৪১। মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন আইন, ২০১২-এর ৭, ৮, ৯ ও ১০ ধারায় মামলাটি করা হয়।
মামলার তদন্তভার গ্রহণের পর মানব পাচারের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করতে বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত যাচাই-বাছাই করে তদন্ত কার্যক্রম শুরু করে সিআইডি। তদন্তের প্রাথমিক পর্যায়ে গ্রেপ্তার আবুল হোসেনের মামলার ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে তথ্য পাওয়া যায়।
এরই ধারাবাহিকতায় তদন্তে পাওয়া তথ্য ও গোয়েন্দা সংবাদের ভিত্তিতে আবুল হোসেনের অবস্থান শনাক্ত করে সিআইডির একটি অভিযানকারী দল। পরে গত মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) গাজীপুরের কাপাসিয়া থানাধীন কাড়িহাতা গ্রামে অভিযান চালিয়ে মামলার এজাহারনামীয় আসামি মো. আবুল হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
সিআইডি জানায়, প্রাথমিক তদন্তে আবুল হোসেনের বিরুদ্ধে মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন আইনে আরও একটি মামলা থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। ২০২৫ সালের ২ অক্টোবর মিরপুর (ডিএমপি) থানায় দায়ের করা ওই মামলার নম্বর ৫। ওই মামলাতেও তিনি এজাহারনামীয় আসামি।