রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলার মৌরাট ইউনিয়নের মৌরাট গ্রামের ঋষিপাড়ায় এক সনাতন ধর্মাবলম্বী প্রবাসীর বাড়িতে মধ্যরাতে হামলা, ভাঙচুর, বিস্ফোরণ ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় বাড়িতে থাকা নারী ও শিশুসহ পরিবারের সদস্যদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে প্রবীণ সুশীল ঋষির বাড়িতে একদল দুর্বৃত্ত হামলা চালায়। এ সময় তারা বাড়িতে ভাঙচুর করে এবং বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটায় বলে পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে। পরে নগদ টাকা, স্বর্ণালংকার ও বিদেশি লাইটসহ বিভিন্ন মূল্যবান সামগ্রী নিয়ে যাওয়ার অভিযোগও পাওয়া গেছে।
সুশীল ঋষি জানান, এর প্রায় ১৫ দিন আগেও তার বাড়িতে হামলা চালিয়ে দুর্বৃত্তরা দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেছিল। সেই টাকা না দেওয়ায় এবার আবারও হামলা চালানো হয়েছে বলে তার অভিযোগ।
তার আরও অভিযোগ, একই গ্রামের খিরোদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে জমি ও সামাজিক বিষয় নিয়ে বিরোধ চলে আসছে। ওই বিরোধের জেরেই তার বাড়িতে বারবার হামলার ঘটনা ঘটছে এবং এতে খিরোদের ইন্ধন রয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
সুশীল ঋষির মেয়ে অর্পণা ঋষি বলেন, প্রবাসে থাকা তার দুই ভাইয়ের কাছে ফোন করে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে টাকা না দিলে তাদের বৃদ্ধ বাবাকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
হামলার সময় বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ও ভাঙচুরের ঘটনায় ঋষিপাড়ার অন্যান্য বাসিন্দাদের মধ্যেও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয়দের দাবি, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে হামলার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করা প্রয়োজন।
খবর পেয়ে রাতেই পাংশা মডেল থানার পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। তবে পাংশা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শেখ মইনূল ইসলাম বলেন, পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বিষয়টি দেখেছে। প্রাথমিকভাবে সেখানে ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে বলে মনে হচ্ছে না। ঘটনাটি জমি-সংক্রান্ত বিরোধের সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে বলে ধারণা করছে পুলিশ। এ বিষয়ে ভুক্তভোগী পরিবারকে লিখিত অভিযোগ দিতে বলা হয়েছে।
এদিকে, ঘটনাটিকে ঘিরে স্থানীয় সনাতনী সম্প্রদায়ের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। তাদের দাবি, অভিযোগটি গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হোক।