চট্টগ্রামে শ্বশুরবাড়িতে নির্যাতনের অভিযোগ, আইসিইউতে ৯ দিন পর অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূর মৃত্যু

চট্টগ্রাম: বিয়ের মাত্র পাঁচ মাসের মাথায় প্রাণ হারালেন ২২ বছর বয়সী সিফাতুন নুর। শ্বশুরবাড়িতে মারধরের শিকার হওয়ার অভিযোগের নয় দিন পর চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়েছে। মৃত্যুর সময় তিনি তিন মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন।

শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) দুপুর দেড়টার দিকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তাঁর মৃত্যু হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নিহতের বাবা মো. নুর। মেয়ের মৃত্যুর ঘটনায় নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রকৃত ঘটনা উদ্‌ঘাটনের দাবি জানিয়েছেন তিনি।

পরিবারের অভিযোগ, গত ১৪ অক্টোবর সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে সিফাতুনের মা জুহিনুর আক্তার (৫৫) মেয়ের শ্বশুরবাড়িতে হাতে তৈরি নাস্তা নিয়ে যান। নাস্তার পরিমাণ কম হওয়াকে কেন্দ্র করে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে সিফাতুনের শাশুড়ি রিজিয়া বেগম (৬০) তাঁর মাকে মারধর করেন। একই সময় রাশেদা বেগম (৫৫) ও সুমি আক্তার (৫২) সিফাতুনের চুলের মুঠি ধরে মাটিতে ফেলে মারধর করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এসে মা ও মেয়েকে উদ্ধার করেন। পরে সিফাতুনের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে ওই রাতেই তাঁকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরিবারের দাবি, সংজ্ঞাহীন অবস্থায় তাঁকে আইসিইউতে রাখা হয়েছিল। সেখানে টানা নয় দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর তাঁর মৃত্যু হয়।

নিহতের বাবা মো. নুর অভিযোগ করেন, মারধরের ঘটনার পর বিষয়টি ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে সিফাতুন আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন—এমন একটি ঘটনা সাজানো হয়েছিল। তিনি ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদ্‌ঘাটন এবং জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, চন্দনাইশ পৌরসভার বাসিন্দা মো. নুরের দুই ছেলে ও এক মেয়ের মধ্যে সিফাতুন ছিলেন সবার ছোট। প্রায় পাঁচ মাস আগে পটিয়া উপজেলার কুসুমপুরা ইউনিয়নের পূর্ব কুসুমপুরা গ্রামের ইলিয়াছ খাঁ বাড়ির মৃত আব্দুল সবুরের ছেলে দুবাইপ্রবাসী মো. তারেকের (২৬) সঙ্গে পারিবারিকভাবে তাঁর বিয়ে হয়। বিয়ের পর স্বামী প্রবাসে থাকায় তিনি শ্বশুরবাড়িতে বসবাস করতেন।

সিফাতুনের পরিবারের আরও অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই তিনি শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হচ্ছিলেন। গত ১৪ অক্টোবরের ঘটনার পর তাঁর মা জুহিনুর আক্তার পটিয়া থানায় সিফাতুনের শাশুড়িসহ তিনজনের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ করেন।

এ বিষয়ে পটিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জিয়াউল হক বলেন, গত ১৪ অক্টোবর ওই গৃহবধূকে মারধরের একটি অভিযোগ পাওয়া গেছে। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যুর বিষয়টিও তিনি জানতে পেরেছেন। ঘটনার মূল বিষয়টি তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *