কুমিল্লার লালমাইয়ে জন্মের পরপরই এক নবজাতক কন্যাশিশুকে অন্যের কাছে রেখে চলে গেছেন মুন্নি বেগম নামে এক নারী। শিশুটিকে অনিশ্চয়তার মধ্যে ফেলে না রেখে নিরাপত্তার দায়িত্ব নেন ছফুরা বেগম নামে এক বৃদ্ধা। তবে আর্থিক সংকটের কারণে শিশুটিকে নিজের কাছে রাখা সম্ভব না হওয়ায় শেষ পর্যন্ত এগিয়ে আসে উপজেলা প্রশাসন। প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে শিশুটিকে চট্টগ্রামের সরকারি শিশু সেফ হোমে পাঠানো হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, লালমাই উপজেলার বাগমারা রেললাইনের পূর্ব পাশের একটি ঘরে শিশুটির জন্ম হয়। জন্মের পর মুন্নি বেগম নবজাতকটিকে ছফুরা বেগমের কাছে রেখে চলে যান। পরে শিশুটিকে নিজের বাড়িতে নিয়ে যান ওই বৃদ্ধা। লালমাইয়ের বেলঘর দক্ষিণ ইউনিয়নের জালগাঁও গ্রামের বাড়িটিতে শিশুটিকে দেখতে ভিড় করেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
বিষয়টি জানার পর বেলঘর দক্ষিণ ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান শাহ আলম উপজেলা প্রশাসনকে অবহিত করেন। এদিকে শিশুটিকে লালন-পালনের আর্থিক সামর্থ্য না থাকায় ছফুরা বেগম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) সাথে যোগাযোগ করেন। পরে শিশুটির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে উদ্যোগ নেয় উপজেলা প্রশাসন।
প্রশাসনের নির্দেশনায় উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয় শিশুটির সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করে। গত শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সকালে ছফুরা বেগম লালমাই থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। তবে চার দিন পেরিয়ে গেলেও শিশুটির প্রকৃত অভিভাবকের সন্ধান পাওয়া যায়নি। পরে প্রশাসন ও সমাজসেবা কার্যালয়ের উদ্যোগে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে শিশুটিকে চট্টগ্রামের সরকারি শিশু সেফ হোমে পাঠানো হয়।
লালমাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুব্রত বিশ্বাস দাস বলেন, খবর পাওয়ার পর থেকেই নবজাতকের নিরাপত্তা ও চিকিৎসাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। শিশুটির কোনো আইনি অভিভাবক শনাক্ত না হওয়ায় শিশু আইন অনুসরণ করে তাকে সরকারি নিরাপদ হেফাজতে পাঠানো হয়েছে। উপজেলা প্রশাসন ও সমাজসেবা কার্যালয় যৌথভাবে শিশুটির সুরক্ষা নিশ্চিত করেছে।