টাঙ্গাইলে বীরশ্রেষ্ঠদের চরম অবমাননা: সাত বীরশ্রেষ্ঠর ভাস্কর্যে দড়ি বেঁধে মেলার স্টল - sanatanitv

টাঙ্গাইলে বীরশ্রেষ্ঠদের চরম অবমাননা: সাত বীরশ্রেষ্ঠর ভাস্কর্যে দড়ি বেঁধে মেলার স্টল

লেখক: প্রতিবেদক ঢাকা
প্রকাশ: মে ৫, ২০২৬

টাঙ্গাইল: মহান মুক্তিযুদ্ধের শ্রেষ্ঠ সন্তানদের প্রতি চরম অবমাননা ও উদাসীনতার এক নজিরবিহীন দৃশ্য দেখা গেল টাঙ্গাইল পৌর উদ্যানে। উদ্যানের প্রবেশমুখে স্থাপিত জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান সাত বীরশ্রেষ্ঠর ভাস্কর্যের সাথে দড়ি লাগিয়ে তৈরি করা হয়েছে বিসিক মেলার স্টল। বীরশ্রেষ্ঠদের আবক্ষ ভাস্কর্যকে খুঁটি হিসেবে ব্যবহার করে মেলার কাঠামো নির্মাণ করায় স্থানীয় বাসিন্দা ও মুক্তিযোদ্ধাদের মাঝে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
ঘটনার বিবরণ:
সরেজমিনে দেখা গেছে, টাঙ্গাইল পৌর উদ্যানে চলমান বিসিক মেলার জন্য অস্থায়ী স্টলগুলো তৈরি করা হয়েছে অত্যন্ত পরিকল্পনাহীনভাবে। মেলা প্রাঙ্গণে বীরশ্রেষ্ঠদের যে সাতটি ভাস্কর্য রয়েছে, সেগুলোকে ভিত্তি করে বাঁশ ও দড়ি বেঁধে ত্রিপল টাঙানো হয়েছে। কোনো কোনো ভাস্কর্যের গলার ওপর দিয়ে দড়ি টানা হয়েছে, আবার কোনোটির গায়ে বাঁশ ঠেকিয়ে রাখা হয়েছে। জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের স্মরণে নির্মিত এই স্মারকগুলোর এমন ব্যবহারকে সাধারণ মানুষ চরম অবমাননাকর বলে অভিহিত করেছেন।
ক্ষুব্ধ নাগরিক ও মুক্তিযোদ্ধা:
স্থানীয় এক শিক্ষার্থী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “যে বীরদের রক্তের বিনিময়ে এই দেশ, আজ তাঁদের ভাস্কর্যকে মেলার স্টলের খুঁটি বানানো হয়েছে। এটা শুধু প্রশাসনের ব্যর্থতা নয়, আমাদের জাতীয় চেতনার ওপর বড় আঘাত।” জেলা পর্যায়ের কয়েকজন মুক্তিযোদ্ধা জানিয়েছেন, মেলার অনুমতির সময় পৌরসভা বা বিসিক কর্তৃপক্ষের উচিত ছিল এই পবিত্র স্থানটির মর্যাদা রক্ষা করা। তাঁরা অবিলম্বে এই স্টলগুলো সরিয়ে নেওয়ার এবং জড়িতদের ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
কর্তৃপক্ষের বক্তব্য:
বিষয়টি নিয়ে মেলা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সাথে যোগাযোগ করা হলে তাঁরা জানান, স্থানাভাবের কারণে স্টলগুলো এভাবে করা হয়েছে। তবে অবমাননার অভিযোগ ওঠার পর তাঁরা দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। টাঙ্গাইল পৌরসভা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে।
বিশ্লেষণ:
একটি অলাভজনক সরকারি মেলা বা ব্যবসার প্রসারের চেয়ে জাতীয় বীরদের সম্মান অনেক বড়। স্বাধীনতার এত বছর পর জেলা শহরের প্রধান উদ্যানে বীরশ্রেষ্ঠদের এমন অমর্যাদা স্থানীয় প্রশাসনের তদারকি নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন তুলেছে।