ঝলক দত্ত, শ্রীমঙ্গল: মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে শারীরিক প্রতিবন্ধী শিশু জীবন সরকারকে একটি হুইলচেয়ার উপহার দেওয়া হয়েছে। শিশুটির চলাফেরার কষ্ট কিছুটা লাঘব করতে মানবিক উদ্যোগ নিয়ে পাশে দাঁড়িয়েছেন ঝুমা সেন ও তাঁর বোন লন্ডনপ্রবাসী পুষ্পিতা গুপ্তা।
জীবন সরকার শ্রীমঙ্গল দক্ষিণ উত্তরসুর এলাকার বাসিন্দা লিটন সরকারের ছেলে। প্রায় ১২ থেকে ১৩ বছর বয়সী জীবন জন্মের পর থেকেই শারীরিক সমস্যায় ভুগছে। সে হাঁটতে পারে না, স্বাভাবিকভাবে চলাফেরাও করতে পারে না। ছোট্ট এই শিশুটিকে নিয়ে তার মা প্রতিদিন কোলে করে মন্দিরে আসতেন আরতি দর্শন করাতে।
একদিন শ্রীমঙ্গলের দেববাড়ি রোডের বাসিন্দা ঝুমা সেন মন্দিরে এসে মায়ের কোলে জীবনকে দেখতে পান। শিশুটির শারীরিক অসুবিধা ও পরিবারের কষ্ট তাঁর হৃদয় ছুঁয়ে যায়। এ সময় তাঁর প্রিয় কাকা পান্না লাল সোমের কথা মনে পড়ে। এরপর তিনি জীবনকে একটি হুইলচেয়ার দেওয়ার উদ্যোগ নেন।
ঝুমা সেনের এই উদ্যোগে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন তাঁর বোন লন্ডনপ্রবাসী পুষ্পিতা গুপ্তা। নিজের অর্থায়নে একটি হুইলচেয়ার কিনে তিনি সেটি শ্রীমঙ্গল শ্রীশ্রী প্রভু জগদ্বন্ধু আশ্রম ও মিশনে পাঠিয়ে দেন।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) শ্রীমঙ্গল শ্রীশ্রী প্রভু জগদ্বন্ধু আশ্রম ও মিশনে জীবন সরকারের হাতে হুইলচেয়ারটি তুলে দেওয়া হয়। এ সময় আশ্রম ও মিশনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি শ্রীমৎ বন্ধু প্রীতম ব্রহ্মচারী মহারাজ নিজ হাতে জীবনকে হুইলচেয়ারে বসিয়ে দেন।
একটি হুইলচেয়ার জীবনের পরিবারের জন্য শুধু উপহার নয়, বরং নতুন আশার প্রতীক। এর মাধ্যমে জীবনের মায়ের দীর্ঘদিনের কষ্ট কিছুটা কমবে এবং শিশুটি নিজের মতো করে চলাফেরার সুযোগ পাবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
ঝুমা সেন ও পুষ্পিতা গুপ্তার এই মানবিক উদ্যোগ স্থানীয়ভাবে সহমর্মিতা ও মানবিকতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছে। অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর এমন উদ্যোগ সমাজে মানবিক মূল্যবোধ ও পারস্পরিক সহযোগিতার বার্তা ছড়িয়ে দেয়।