মনপুরায় হিন্দু দম্পতিকে গাছে বেঁধে মারধরের অভিযোগ, ন্যায়বিচারের দাবি

ভোলার মনপুরা উপজেলায় এক হিন্দু দম্পতিকে গাছের সঙ্গে বেঁধে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় সঠিক বিচার না পেয়ে অসহায় অবস্থার কথা জানিয়েছেন ভুক্তভোগী পরিবার।

ঘটনাটি উপজেলার ৪ নম্বর দক্ষিণ সাকুচিয়া ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডে ঘটেছে। ভুক্তভোগীরা হলেন সুবল চন্দ্র দাস ও মনখুশী রানী দাস, যারা একই এলাকার বাসিন্দা অভিযুক্ত মো. বাবলুর প্রতিবেশী।

ভুক্তভোগী দম্পতির অভিযোগ, তারা প্রায় ১২০ শতাংশ জমিতে মুগডাল আবাদ করেন। দীর্ঘদিন ধরে বাবলুর পালিত ছাগল তাদের জমিতে ঢুকে ফসল নষ্ট করছিল। বিষয়টি একাধিকবার জানানো হলেও কোনো প্রতিকার পাননি তারা।

তাদের দাবি, একপর্যায়ে ফসল খাওয়ার সময় একটি ছাগল ধরে নিয়ে আসতে গেলে বাবলু লাঠিসোটা নিয়ে হামলা চালান। পরে তাদের বাবলুর বাড়ির পুকুরপাড়ে নিয়ে গিয়ে গাছের সঙ্গে বেঁধে মারধর করা হয়।

ঘটনার পর তারা স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের কাছে অভিযোগ জানালে একটি সালিশ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা ও ওয়ার্ড পর্যায়ের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
তবে ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, সালিশে তারা ন্যায়বিচার পাননি। অভিযুক্তের সঙ্গে বিচার সংশ্লিষ্ট এক ব্যক্তির আত্মীয়তার সম্পর্ক থাকায় পক্ষপাতমূলক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে দাবি তাদের। সালিশে কেবল তাদের দিয়ে ক্ষমা চাওয়ানো হয় এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনা না ঘটার আশ্বাস দেওয়া হয়।

ভুক্তভোগীরা আরও জানান, সালিশের দিন রাতেই আবার অভিযুক্তের গরু ও ছাগল তাদের জমির অধিকাংশ ফসল নষ্ট করে। এতে তারা আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত মো. বাবলু অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, মারধর ও ফসল নষ্ট করার ঘটনা সত্য নয়। তবে তিনি স্বীকার করেন যে এ বিষয়ে একটি সালিশ বৈঠক হয়েছিল এবং প্রমাণ পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী সিদ্ধান্ত মেনে নেবেন।

অন্যদিকে, সালিশে উপস্থিত স্থানীয় ব্যক্তি মো. মহিউদ্দিনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
ভুক্তভোগী দম্পতি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচারের দাবি জানিয়েছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *