মনপুরায় হিন্দু দম্পতিকে গাছে বেঁধে মারধরের অভিযোগ, ন্যায়বিচারের দাবি

নওগাঁর পত্নীতলায় একটি মন্দিরের চিরস্থায়ী দেবোত্তর সম্পত্তির ধান বিষ প্রয়োগ করে নষ্ট করার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় একটি প্রভাবশালী মহলের বিরুদ্ধে। উপজেলার সন্তোষপাড়া গ্রামে অবস্থিত ঐতিহাসিক ‍‍`বিশহরি মন্দির‍‍` সংলগ্ন জমিতে এই ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় মন্দির কমিটির পক্ষ থেকে শ্রী রুপচাঁদ রবিদাস বাদী হয়ে পত্নীতলা থানায় ৬ জনের নাম উল্লেখ করে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

আজ (২৭ এপ্রিল ২০২৬) ​সোমবার অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, সন্তোষপাড়া মৌজার ৩২৬ নম্বর দাগের ১১ শতাংশ পুকুর পাড় জমিটি নিষ্কর দেবোত্তর সম্পত্তি হিসেবে মন্দিরের নামে রেকর্ডভুক্ত। দীর্ঘদিন ধরে মন্দির কমিটি এই জমিতে চাষাবাদ করে প্রাপ্ত অর্থ মন্দিরের উন্নয়ন কাজে ব্যয় করে আসছে। কিন্তু বিবাদী মোঃ আব্দুল জব্বার ও তার পরিবার দীর্ঘদিন ধরে এই জমি দখলের চেষ্টা চালিয়ে আসছে, যা নিয়ে আদালতে মামলা (নং-২১২/২০০৮) চলমান রয়েছে।

অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, গত ৫ মার্চ ২০২২ তারিখে বিবাদী পক্ষ মন্দিরের সীমানা প্রাচীর ভেঙে এবং গাছপালা কেটে জমি দখলের চেষ্টা চালায়। এরই ধারাবাহিকতায় গত ১৭ এপ্রিল ২০২৬ তারিখ দিবাগত রাত ১২টার দিকে বিবাদীগণ লাঠিসোটা ও বিষ প্রয়োগের স্প্রে মেশিন নিয়ে জমিতে অনধিকার প্রবেশ করে। তারা জমিতে রোপণকৃত ধানে আগাছানাশক বিষ (বিন্না মারা বিষ) প্রয়োগ করে।এতে প্রায় ৪০ হাজার টাকার ধান পুড়ে নষ্ট হয়ে গেছে বলে দাবি করেছেন মন্দির কমিটির সদস্যরা।

​বাদী শ্রী রুপচাঁদ রবিদাস জানান, রাতে বিষ প্রয়োগের খবর পেয়ে মন্দির কমিটির লোকজন সেখানে পৌঁছালে বিবাদীগণ প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে চরম উত্তেজনা ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। সাক্ষী হিসেবে শুশিল রবিদাস, শ্রী ভুদলু রবিদাস ও শ্রী শুখচাঁদ রবিদাসসহ স্থানীয় অনেকেই ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

​বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের সাথে আলোচনার পর গত ২৪ এপ্রিল থানায় আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করা হয়। মন্দির কমিটির পক্ষ থেকে এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয়েছে।

​এ বিষয়ে পত্নীতলা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জানান, অভিযোগটি তদন্তাধীন রয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *