যশোর কোতোয়ালি মডেল থানার অভ্যন্তরে থাকা মহান মুক্তিযুদ্ধের শহীদ স্মৃতিস্তম্ভটি ধ্বংস নয়, বরং থানার নতুন আধুনিক ভবন নির্মাণের পর যথাযথ স্থানে প্রতিস্থাপন করা হবে বলে জানিয়েছে জেলা পুলিশ। স্মৃতিস্তম্ভটি অপসারণকে কেন্দ্র করে সাধারণ মানুষ ও পুলিশ সদস্যদের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি ও মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হলে মঙ্গলবার বিকেলে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে বিষয়টি স্পষ্ট করেন যশোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. মিরাজুল ইসলাম। একই সঙ্গে তিনি বিষয়টি নিয়ে কোনো ধরনের অপপ্রচারে বিভ্রান্ত না হওয়ার জন্য আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, ইউএনডিপির অর্থায়নে দেশব্যাপী ১০৭টি থানা আধুনিকায়ন প্রকল্পের আওতায় যশোর গণপূর্ত অধিদপ্তর কোতোয়ালি মডেল থানার চারতলা আধুনিক ভবন নির্মাণের কাজ শুরু করেছে। প্রস্তাবিত ২৬ হাজার বর্গফুট ও ছয়তলা ফাউন্ডেশনবিশিষ্ট এই ভবনের নকশার কারণে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে পুলিশের আত্মত্যাগের স্মৃতিবিজড়িত স্তম্ভটি বর্তমান অবস্থানে রাখা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের অনুমতি নিয়ে এটি সাময়িকভাবে সরানো হয়েছে। নতুন ভবনের কাজ সম্পন্ন হওয়ার পর উপযুক্ত ও মর্যাদাপূর্ণ স্থানে স্মৃতিস্তম্ভটি পুনরায় প্রতিস্থাপন করা হবে। তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, এটি কোনোভাবেই স্মৃতিস্তম্ভ ধ্বংস নয়, বরং সংস্কার ও আধুনিকায়নের অংশ।
এ ছাড়া প্রেস ব্রিফিংয়ে জেলা পুলিশের অপরাধবিরোধী চলমান বিশেষ অভিযানের সাফল্য তুলে ধরা হয়। এতে জানানো হয়, পহেলা জুলাই থেকে অদ্যাবধি বিশেষ অভিযানে মাদক ব্যবসায়ী ও মাদকসেবীসহ মোট ২০৪ জনকে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া ২০০টি মাদক মামলায় ২৪৫ জনকে আটক করা হয়। আটককৃতদের কাছ থেকে ২ গ্রাম ও ২০ পুরিয়া হেরোইন, ২৫ কেজি ৯১৯ গ্রাম ও ৮৭ পুরিয়া গাঁজা, ২টি গাঁজার গাছ, ৮ হাজার ৪০৭ পিস ইয়াবা, ৭৪৪ পিস ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট, ৫৯৫ বোতল কোডিনযুক্ত কফ সিরাপ এবং ৬ বোতল দেশি-বিদেশি মদ জব্দ করা হয়েছে।
একই সময়ে জেলা পুলিশ ২টি ওয়ান শুটারগান, ১টি বিদেশি পিস্তল, ২টি ম্যাগাজিন এবং ১৪ রাউন্ড তাজা গুলি উদ্ধার করেছে। এ ছাড়া গত মাস থেকে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পরিচালিত বিশেষ অভিযানে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টিকারী, অবৈধ অস্ত্রধারী, চোরাকারবারি, ছিনতাইকারী ও চাঁদাবাজিসহ মোট ৩৮৭ জনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মিরাজুল ইসলাম।