আশুলিয়ায় নিজের মেয়েকে পাঁচ মাস ধরে ধর্ষণের অভিযোগে বাবা গ্রেপ্তার

সোমবার (১৫ জুন) দুপুরে আশুলিয়ার দক্ষিণ গাজিরচট দুদু মার্কেট সংলগ্ন এলাকার একটি ভাড়া বাসা থেকে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়। সুলতান বরিশাল জেলার মুলাদি থানার বাটামারা গ্রামের নুরুল ইসলামের ছেলে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে আশুলিয়ার ওই এলাকায় সপরিবারে বসবাস করছিলেন।

ভুক্তভোগী কিশোরীর অভিযোগ, তার মা শারীরিক প্রতিবন্ধী হওয়ায় তারা সবাই একসাথেই বসবাস করতেন। মায়ের অসুস্থতার সুযোগ নিয়ে তার বাবা গত প্রায় পাঁচ মাস ধরে তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে আসছিলেন। এতে বাধা দিলে তাকে মারধর করা হতো এবং ঘটনাটি কাউকে না বলার জন্য বিভিন্ন ভয়ভীতি ও হুমকি দেওয়া হতো।

ভুক্তভোগী কিশোরী এবং স্থানীয় সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, সুলতান তার মেয়েকে স্থানীয় একটি পোশাক কারখানায় কাজে পাঠাতেন। সেই কর্মজীবী মেয়েকেই গত পাঁচ মাস ধরে তিনি নিয়মিত ভয়ভীতি দেখিয়ে ধর্ষণ করে আসছিলেন। দীর্ঘদিনের এই পৈশাচিক আচরণের বিষয়টি সম্প্রতি জানাজানি হলে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।

 

সুলতানের বিরুদ্ধে শুধু নিজ মেয়েকে নির্যাতনের অভিযোগই নয়, বরং তার অমানবিক আচরণের আরও প্রমাণ পেয়েছেন স্থানীয়রা। জানা গেছে, অভিযুক্ত সুলতান তার শারীরিক প্রতিবন্ধী স্ত্রীকে দিয়ে এলাকায় ভিক্ষাবৃত্তি করাতেন। মেয়ের আয়ের টাকা এবং স্ত্রীর ভিক্ষার টাকায় তার সংসার চললেও তাদের ওপর নিয়মিত পাশবিক নির্যাতন চালাতেন তিনি।

বাবার এমন ঘৃণ্য ও ন্যাক্কারজনক কাজের জন্য আইনের কাছে সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করে ভুক্তভোগী মেয়েটি বলে, আমি আমার বাবার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই, যাতে আর কোনো মেয়েকে নিজের ঘরে এমন নির্যাতনের শিকার হতে না হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সুলতান তার মেয়েকে একটি পোশাক কারখানায় কাজে পাঠিয়েছিলেন। এছাড়া তার প্রতিবন্ধী স্ত্রীকে দিয়ে এলাকায় ভিক্ষাবৃত্তি করানোরও অভিযোগ রয়েছে। মেয়েকে ধর্ষণের চাঞ্চল্যকর এই তথ্য প্রকাশ্যে আসার পর ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী সুলতানকে আটকে রেখে পুলিশের হাতে তুলে দেয়।

খবর পেয়ে আশুলিয়া থানা-পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযুক্তকে হেফাজতে নেয় এবং থানায় নিয়ে আসে।

এ বিষয়ে আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তরিকুল ইসলাম জানান, স্থানীয়দের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সুলতান নামের এক ব্যক্তিকে থানায় আনা হয়েছে। ভুক্তভোগীর অভিযোগ ও ঘটনাসংশ্লিষ্ট তথ্য যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। প্রাথমিক তদন্তে ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেলে তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *