দুই বছর ধরে নিখোঁজ ছিলেন বাবা। পরিবারের কেউ জানতেন না তিনি কোথায়। অথচ নিখোঁজ হওয়ার পরদিনই তার মরদেহ উদ্ধার হয়েছিল চট্টগ্রাম নগরের আউটার লিংক রোডের পাশ থেকে, দাফনও হয়েছিল বেওয়ারিশ লাশ হিসেবে। দুই বছর পর জানা গেল, সম্পত্তির লোভে নিজের বাবাকে প্রেমের ফাঁদে ফেলে হত্যা করেছিলেন ছেলে।
সোমবার (১৫ জুন) সংবাদ সম্মেলনে পিবিআই চট্টগ্রাম মেট্রোর পুলিশ সুপার এসএম রফিকুল ইসলাম জানান, বাঁশখালীর পূর্ব চাম্বল গ্রামের বাসিন্দা মুজিবুর রহমান খান পেশায় বাবুর্চি ছিলেন এবং তিনি ৩টি বিবাহ করেন। দ্বিতীয় স্ত্রী ২০২২ সালে ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়ার পর তিনি কিছু জমি বিক্রি করে তার দ্বিতীয় স্ত্রীর মেয়ে সালমা খানমকে টাকা দেন। এনিয়ে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন তার প্রথম স্ত্রীর ছেলে বেলাল হোসেন। পরে বাবার আরও জমি বিক্রির পরিকল্পনার খবর পেয়ে তাকে সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় ছেলে।
এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নিহত মীর মুজিবুর রহমান খানের ছেলে মোহাম্মদ বেলাল হোসেন এবং তার সহযোগী আব্দুল জলিলকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। হত্যার পরিকল্পনায় অংশ নেওয়া এক নারীকে খুঁজছে সংস্থাটি।
তদন্তে উঠে এসেছে, বেলাল তার এক পরিচিত নারী ও স্ত্রীর বড় বোনের স্বামী আব্দুল জলিলকে সঙ্গে নিয়ে হত্যার ছক আঁকে। পরিকল্পনা অনুযায়ী ওই নারী মোবাইল ফোনে মুজিবুর রহমানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তোলেন। পরে ২০২৪ সালের ৮ জুন বহদ্দারহাট এলাকার একটি ভাড়া বাসায় দেখা করার কথা বলে তাকে সেখানে ডেকে নেওয়া হয়।
সেখানে খাবারের সঙ্গে চেতনানাশকওষুধ মিশিয়ে অচেতন করার পর মুজিবুর রহমানকে একটি মাইক্রোবাসে তুলে নেওয়া হয়। পরে নগরের হালিশহর এলাকার সিডিএ আউটার লিংক রোডে নিয়ে গলায় গামছা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়। মৃত্যুর পর মরদেহ রাস্তার পাশের ঝোপে ফেলে পালিয়ে যায় অভিযুক্তরা।
নিখোঁজ হওয়ার পর মুজিবুর রহমানের মেয়ে সালমা খানম প্রথমে সাধারণ ডায়েরি এবং পরে আদালতে অপহরণ মামলা দায়ের করেন। আদালতের নির্দেশে তদন্ত শুরু করে পিবিআই। দীর্ঘ অনুসন্ধান ও প্রযুক্তিগত তথ্য বিশ্লেষণের মাধ্যমে গত ১৩ জুন বেলাল হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পরদিন জোরারগঞ্জ থেকে আব্দুল জলিলকে আটক করা হয়।
পিবিআই জানায়, গ্রেপ্তার দুজন জিজ্ঞাসাবাদ ও আদালতে দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে হত্যার দায় স্বীকার করেছেন।
তদন্তে আরও জানা গেছে, হত্যার পরদিন আউটার লিংক রোড এলাকা থেকে যে অজ্ঞাতনামা মরদেহ উদ্ধার হয়েছিল, সেটিই ছিল মুজিবুর রহমানের। পরিচয় শনাক্ত না হওয়ায় সে সময় মরদেহটি বেওয়ারিশ হিসেবে আঞ্জুমানে মফিদুল ইসলামের মাধ্যমে দাফন করা হয়েছিল।