মুন্সিগঞ্জের গজারিয়ায় ১৯ বছর বয়সী তরুণী হালিমা আক্তারকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যা করে তার মরদেহ গুমের উদ্দেশ্যে নদীতে ফেলে দেওয়া হয়েছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। এ ঘটনায় জড়িতরা হত্যার প্রায় ১৫ দিন আগেই পরিকল্পনা করেছিল বলেও জানিয়েছে সংস্থাটি।
রোববার (৩১ মে) রাত সাড়ে ৭টার দিকে মুন্সিগঞ্জে পিবিআই কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আছমা আরা জাহান।
তিনি বলেন, পাওনা টাকা নিয়ে বিরোধের জেরে পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী গত ২৬ মে সন্ধ্যায় হালিমা আক্তারকে কৌশলে গজারিয়ার বড় ভাটেরচর এলাকার নদীপাড়ের একটি নির্জন স্থানে ডেকে নেওয়া হয়। পরে তাকে ইঞ্জিনচালিত ট্রলারে নদী পার করে একটি ভুট্টাক্ষেতে নিয়ে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও পাশবিক নির্যাতন চালানো হয়।
একপর্যায়ে গলায় ফাঁস দিয়ে শ্বাসরোধে তাকে হত্যা করা হয়। পরে মরদেহ গুমের উদ্দেশ্যে নদীতে ফেলে দেওয়া হয় বলে জানায় পিবিআই।
এর দুই দিন পর, গত শুক্রবার (২৯ মে) সকালে গজারিয়ার ফুলদী নদী থেকে হালিমা আক্তারের মরদেহ উদ্ধার করে নৌ-পুলিশ। আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় পরে নিহতের পরিচয় নিশ্চিত করে পিবিআই।
একই দিন সন্ধ্যায় নিহতের বোন হোসনেয়ারা আক্তার বৃষ্টি বাদী হয়ে গজারিয়া থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। এরপর ঘটনাটির তদন্তে নামে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
তদন্তের একপর্যায়ে ঘটনায় জড়িত সন্দেহে চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের পর তারা নিজেদের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করে এবং আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন, আবু কালাম (৪৮), জামাল হোসেন (৪৪), রাসেল মিয়া (৪৪) এবং আল আমিন প্রধান (৫০)। তারা সবাই গজারিয়ার বড় ভাটেরচর এলাকার বাসিন্দা। নিহত হালিমা আক্তার গজারিয়ার হোসেন্দী ইউনিয়নের জামালদী গ্রামের মহাসিন বেপারীর মেয়ে।
সংবাদ সম্মেলনে পিবিআই জানায়, প্রধান অভিযুক্ত আবু কালামের কাছে হালিমার ২৫ হাজার টাকা এবং রাসেল মিয়ার কাছে ১০ হাজার টাকা পাওনা ছিল। এছাড়া জামাল হোসেনের সঙ্গে আগে থেকেই তার সম্পর্ক ছিল। অভিযুক্ত তিনজনই বিভিন্ন সময় হালিমার কাছ থেকে টাকা ধার নিলেও তা ফেরত দিতেন না। এ নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে বিরোধের সৃষ্টি হয়।
পিবিআইয়ের তথ্যমতে, ওই বিরোধকে কেন্দ্র করেই তরুণীকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়। ঘটনার প্রায় ১৫ দিন আগে হামদর্দ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতরে বসে এ পরিকল্পনা করে অভিযুক্তরা। পরে পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী টাকা ফেরত দেওয়ার কথা বলে ২৬ মে সন্ধ্যায় তাকে বড় ভাটেরচর নদীর তীরে ডেকে নেওয়া হয়। এরপর ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়।
এ বিষয়ে মুন্সিগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ আদালত পুলিশের পরিদর্শক কামরুল হাসান জানান, আসামিরা ঘটনায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে মুন্সিগঞ্জ আমলি আদালত-৫-এর বিচারক জিনিয়া ইসলামের কাছে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। পরে আদালত তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
