জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী হল দোলনচাঁপায় গ্যাস লিকেজ থেকে চুলায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এতে সানজিদা সুরভী নামে এক নারী শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন।
শনিবার (৭ নভেম্বর) বিকেলে হলের তৃতীয় তলায় এ ঘটনা ঘটে। আহত সানজিদা সুরভী বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। ঘটনার পর তাকে উদ্ধার করে ত্রিশাল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দোলনচাঁপা হলের হাউজ টিউটর ও বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের সহকারী অধ্যাপক সুমনা আক্তার সুমি।
তিনি জানান, হলের তৃতীয় তলার রান্নাঘরের চুলার চাবিতে সমস্যা থাকায় গ্যাস নির্গত হচ্ছিল। এ সময় এক শিক্ষার্থী রান্না করতে গেলে হঠাৎ আগুন ধরে যায়। আগুন দেখে আতঙ্কিত হয়ে ওই শিক্ষার্থী মেঝেতে পড়ে যান। খবর পেয়ে প্রক্টরিয়াল বডির সদস্য ও দুই হাউজ টিউটর ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নেভান।
আহত শিক্ষার্থীর শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে সুমনা আক্তার সুমি বলেন, প্রথমে শিক্ষার্থীর কান্নাকাটি দেখে তাদের আশঙ্কা হয়েছিল, তার হাত ভেঙে গেছে। তবে পরে দেখা যায়, হাত ভাঙেনি বা তিনি গুরুতর আহত হননি। তার হাড় কিছুটা সরে গিয়েছিল। বর্তমানে তিনি সুস্থ আছেন এবং চিকিৎসা শেষে হলে ফিরে এসেছেন। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী, তাকে দুই সপ্তাহ বিশ্রামে থাকতে বলা হয়েছে।
এ ঘটনার পর হলের শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। আবাসিক শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, হলের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে আগেও প্রশাসনকে জানানো হলেও সেগুলোর সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।
দোলনচাঁপা হলের আবাসিক শিক্ষার্থী রিফাইয়া ইসলাম সূচনা বলেন, “হলের নানা সমস্যা নিয়ে অভিযোগ জানালেও হল প্রশাসন তা গুরুত্বের সঙ্গে নেয় না। হলে ডাইনিং নেই, গ্যাস ও পানির লাইনে সমস্যা রয়েছে। পানির লাইন থেকে মাঝেমধ্যে পাখির পালক পাওয়া যায়, সেই পানিই শিক্ষার্থীদের পান করতে হয়। এ ছাড়া ওয়াশরুম ও বিভিন্ন সুইচে সমস্যা রয়েছে।” সুইচের কারণে যেকোনো সময় বৈদ্যুতিক শক খাওয়ার আশঙ্কাও থাকে বলে জানান তিনি।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, একাধিকবার একই সমস্যা নিয়ে অভিযোগ জানানোর পরও প্রশাসন সেগুলো আমলে নেয় না। এতে শিক্ষার্থীরা নিজেদের অবহেলিত মনে করছেন।
এ বিষয়ে জানতে দোলনচাঁপা হলের প্রভোস্ট উম্মে ফারহানার মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।