নিজস্ব প্রতিবেদক:
মৌলবাদ, সাম্প্রদায়িক সহিংসতা, ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক নিপীড়ন এবং নাগরিক অধিকার লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে ন্যায়বিচার ও নাগরিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ১০ দফা দাবি জানিয়েছে সামাজিক সংগঠন ‘সৌহার্দ্যের বাংলাদেশ’। এসব দাবি বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়ে ৪ নভেম্বর ২০২৬ তারিখে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রীর কাছে একটি স্মারকলিপি দেওয়া হয়েছে।
সংগঠনটির স্মারকলিপির বিষয়বস্তুতে মৌলবাদ, সন্ত্রাস, ধর্মীয়-সাংস্কৃতিক নিপীড়ন ও সব ধরনের আগ্রাসনের বিরুদ্ধে ন্যায়বিচার এবং নাগরিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি তুলে ধরা হয়েছে।
সংগঠনটির প্রকাশিত ১০ দফা দাবির মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো—
১. ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা এবং সহিংসতার বিচার: মঠ, মন্দির, আশ্রম, খানকা, দরবার, সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান, রাজনৈতিক কার্যালয়, আবাসিক এলাকা এবং বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে সংঘটিত হামলার নিরপেক্ষ তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক বিচার নিশ্চিত করা। হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি, পরিবার, সম্প্রদায় ও প্রতিষ্ঠানকে রাষ্ট্রীয়ভাবে ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসনের দাবি জানানো হয়েছে।
২. ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিশু নির্যাতন ও যৌন নিপীড়নের বিচার: কথিত ধর্মীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিশুদের ওপর নির্যাতন, জোরপূর্বক যৌন নিপীড়ন ও ধর্ষণ বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ এবং জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।
৩. ধর্ম ও সংস্কৃতিচর্চায় নিয়ন্ত্রণ আরোপ না করা: নিরাপত্তার অজুহাতে ধর্মীয় অনুষ্ঠান, মেলা, পূজা, সাংস্কৃতিক আয়োজন, কনসার্ট ও খেলাধুলার মতো কার্যক্রমে অযৌক্তিক বিধিনিষেধ আরোপ না করার আহ্বান জানানো হয়েছে। বরং ধর্ম, সংস্কৃতি ও শিল্পচর্চার জন্য অবাধ, নিরাপদ ও বৈষম্যহীন পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি তোলা হয়েছে।
৪. বিশ্বাস কিংবা অবিশ্বাসের কারণে হত্যা ও সহিংসতার বিচার: ধর্মীয় পরিচয়, বিশ্বাস কিংবা অবিশ্বাসকে কেন্দ্র করে সংঘটিত হত্যা, সহিংসতা ও নির্যাতনের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দায়ীদের বিচারের আওতায় আনার দাবি জানানো হয়েছে।
স্মারকলিপিতে সংগঠনটি নিজেদের একটি অসাম্প্রদায়িক, গণতান্ত্রিক ও মানবিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে গঠিত সামাজিক উদ্যোগ হিসেবে উল্লেখ করেছে। এতে সনাতনী, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান, আদিবাসী ও অন্যান্য জনগোষ্ঠীর পাশাপাশি সাম্যবাদী, বামপন্থী, বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ত মানুষের অধিকার, স্বাধীনতা, বিশ্বাস, সংস্কৃতি ও মর্যাদা রক্ষার অঙ্গীকার ব্যক্ত করা হয়েছে।
সংগঠনটির অভিযোগ, দেশের বিভিন্ন স্থানে মাজার, মন্দির, আশ্রম, সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান ও গণমাধ্যমের ওপর হামলা, ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে সংঘবদ্ধ সহিংসতা এবং নারী ও সংখ্যালঘুদের ওপর আক্রমণের মতো ঘটনা নাগরিকদের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা ও আতঙ্ক তৈরি করছে। এসব ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত ও বিচার নিশ্চিত করা জরুরি বলে স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
এতে আরও বলা হয়, বাংলাদেশের সংবিধান সব নাগরিকের আইনের দৃষ্টিতে সমতা, ধর্মীয় স্বাধীনতা, জীবন ও ব্যক্তিস্বাধীনতার সুরক্ষা এবং চিন্তা ও বিবেকের স্বাধীনতার নিশ্চয়তা দিয়েছে। এসব সাংবিধানিক অধিকার বাস্তবায়ন করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব।
সংগঠনটি জানিয়েছে, তাদের দাবিগুলো কোনো নির্দিষ্ট ধর্ম বা সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে নয়; বরং সব ধরনের সহিংসতা, বৈষম্য, নিপীড়ন ও নাগরিক অধিকার হরণের বিরুদ্ধে। ন্যায়বিচার, মানবিক মর্যাদা এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠাই তাদের মূল লক্ষ্য।
স্মারকলিপিতে উত্থাপিত ১০ দফা দাবির পূর্ণ বাস্তবায়ন এবং নাগরিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারের কার্যকর ও দৃশ্যমান পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে।