পঞ্চগড়ে একটি লাউয়ের দাম ২৫ পয়সা, ঢাকায় সেই লাউ ৪০ টাকা

এক টাকায় ৪ লাউ। তথ্যটি শুনলে শহরের মানুষের চোখ কপালে উঠতেই পারে। তবে, সে যাই হোক, ঘটনা সত্য। পঞ্চগড়ে ৪টি লাউ মাত্র এক টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অথচ একই লাউ শহরে এসে প্রতিটি ৪০ টাকা করে বিক্রি হচ্ছে। গ্রাম থেকে শহরের আসতে কয়েকবার হাত বদল হওয়ায় দাম বৃদ্ধি পাচ্ছে বলে দাবি করছেন বিক্রেতারা। কিন্তু বিক্রেতাদের এমন দাবি নাকচ করেছেন কৃষকরা। শহরের ক্রেতারাও কৃষকদের সঙ্গে একমত। কৃষকরা তাদের উৎপাদিত সবজির ন্যায্য দাম পাচ্ছেন না বলেও স্পষ্ট জানিয়েছেন।

শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) পঞ্চগড় ও রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে এ তথ্য জানা গেছে।

পঞ্চগড়ের আটোয়ারী উপজেলার মির্জাপুর-তেলিপাড়ার কৃষক মো. দুলাল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের ৪টি লাউ মাত্র এক টাকায় বিক্রি করতে হচ্ছে। তাও বাকিতে। সার-কীটনাশকের অতিরিক্ত দামের মধ্যে ৪০ শতক জমিতে ৬০-৭০ হাজার টাকা খরচ করে এ পর্যন্ত মাত্র ৩০ হাজার টাকার লাউ বিক্রি করতে পেরেছি। ন্যায্য দাম না পেয়ে জমির সব গাছ কেটে ফেলেছি।’

এ বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে আরেক কৃষক আব্দুর রহমান রীতিমতো কান্নায় ভেঙে পড়েন। তিনি বলেন, ‘অনেক স্বপ্ন নিয়ে লাউ চাষ করেছিলাম। শুরুতে ভালো দাম পেলেও, এখন দাম নেই বললেই চলে। খরচের টাকাটাও উঠেনি। ঋণ নিয়েছিলাম। তাও পরিশোধ করতে পারিনি। এখনো অনেক লাউ ধরে আছে। কিন্তু বিক্রি করতে পারছি না। বাধ্য হয়ে কেটে ফেলে দিতে হচ্ছে।’

লাউয়ের খুচরা দোকান। ছবি: এশিয়া পোস্ট
লাউয়ের খুচরা দোকান। ছবি: এশিয়া পোস্ট

অভিযোগ করে তিনি বলেন, ‘আমরা পাইকারদের হাতে জিম্মি। আমাদের দুর্বলতা তারা কাজে লাগাচ্ছে। এখান থেকে কম দামে তারা কিনে শহরে বেশি দামে বিক্রি করছে। অথচ আমরা সঠিক দাম পাচ্ছি না। এমনটা হলে চাষ করা বন্ধ করে দিতে হবে।’

রাজধানীর কারওয়ান বাজারের পাইকারি বিক্রেতা আব্দুস সালাম এশিয়া পোস্টকে জানান, পাইকারি প্রতি পিস লাউ ১৫-২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। পূজার ছুটিতে অনেকে মানুষ শহর ছেড়েছেন। তাই বেচা-বিক্রি কম। ছুটি শেষে দাম আরও বাড়তে পারে।

কৃষক কম দামে বিক্রি করছে, শহরে এত দাম কেন? এমন প্রশ্নে কারওয়ান বাজারের খুচরা সবজি বিক্রেতা মোহাম্মদ হযরত আলী বলেন, ‘গ্রাম থেকে শহরে আসতে বেশ কয়েকটা হাতবদল হয়। এ অবস্থায় ধাপে ধাপে দাম বাড়ে। সবশেষ আমাদের বেশি দামে কিনতে হয়। এরপর অল্প লাভে আমরা বিক্রি করি। এর বেশি কিছু জানি না।’

ফার্মগেট থেকে কারওয়ান বাজারে আসা ক্রেতা শামছুদ্দিন বলেন, ‘কারওয়ান বাজারে মহল্লার থেকে কিছুটা কম দামে পাওয়া যায়। এজন্য এখান থেকে বাজার করি। আজকে প্রতি পিস লাউ ৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কিন্তু মহল্লার বাজারে এর দাম আরও বেশি। হাত বদল হলেই সবজির দাম বেড়ে যায়।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *