বেনাপোল:
ভারতে অবৈধ অনুপ্রবেশের অভিযোগে আটক ছয় বাংলাদেশি নাগরিক ট্রাভেল পারমিটের মাধ্যমে বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে দেশে ফিরেছেন।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) ভারতের পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনা জেলার হরিদাসপুর চেকপোস্ট ইমিগ্রেশন পুলিশ তাঁদের বাংলাদেশের বেনাপোল চেকপোস্ট ইমিগ্রেশন পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে। দুই দেশের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে বেনাপোল-পেট্রাপোল শূন্যরেখায় আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়।
ভারতের হরিদাসপুর ইমিগ্রেশন ব্যুরোর নথি অনুযায়ী, ভারতে নিযুক্ত বাংলাদেশ হাইকমিশনের দেওয়া ট্রাভেল পারমিট এবং জম্মুর ফরেনার্স রিজিওনাল রেজিস্ট্রেশন অফিসের (এফআরআরও) দেওয়া এক্সিট পারমিটের ভিত্তিতে তাঁদের দেশে ফেরত পাঠানো হয়।
দেশে ফেরা ছয় বাংলাদেশি হলেন—সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার জলিপুর এলাকার নূরুল হকের ছেলে মোহাম্মদ আলী, একই এলাকার সুলতান মিয়ার ছেলে মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর, সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার জাউয়া এলাকার আবদুর রহিমের ছেলে আবদুল করিম, কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলার কুতুবজুম এলাকার মোহাম্মদ শাবিরের ছেলে আবদুল সফুর ওরফে আবদুল সাবুর, গাজীপুরের টঙ্গী এলাকার আবদুল সালামের ছেলে মোহাম্মদ সাব্বির ইসলাম এবং বগুড়ার শেরপুর উপজেলার আন্দিলা এলাকার বাসার সানার ছেলে হাফিজুল্লাহ ওরফে হাফিজুর।
বেনাপোল চেকপোস্ট ইমিগ্রেশন পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুর রহমান জানান, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই ও আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে ফেরত আসা ছয় বাংলাদেশিকে বেনাপোল পোর্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
বেনাপোল পোর্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশরাফ হোসেন জানান, থানার প্রয়োজনীয় কার্যক্রম শেষে তাঁদের পরিবারের কাছে পৌঁছে দেওয়ার জন্য বেসরকারি সংস্থা জাস্টিস অ্যান্ড কেয়ারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
যশোর জাস্টিস অ্যান্ড কেয়ারের স্বেচ্ছাসেবক শফিকুল ইসলাম জানান, ফেরত আসা ব্যক্তিরা বিভিন্ন সময়ে দালালের প্রলোভনে পড়ে অবৈধ পথে ভারতে গিয়েছিলেন। পরে অবৈধ অনুপ্রবেশের অভিযোগে ভারতীয় পুলিশ তাঁদের আটক করে জম্মুর কারাগারে পাঠায়।
তিনি আরও জানান, পরবর্তী সময়ে দুই দেশের বেসরকারি সংস্থা ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সমন্বয়ে প্রয়োজনীয় ট্রাভেল পারমিটের মাধ্যমে তাঁদের দেশে ফিরিয়ে আনা হয়।
ইতোমধ্যে ফেরত আসা ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্যদের খবর দেওয়া হয়েছে। স্বজনরা এসে তাঁদের গ্রহণ না করা পর্যন্ত তাঁরা জাস্টিস অ্যান্ড কেয়ারের তত্ত্বাবধানে থাকবেন বলে জানান শফিকুল ইসলাম।