যশোরে কোচিংয়ে না পড়ায় ছাত্রীকে নির্যাতনের অভিযোগ, এমএসটিপি শিক্ষক সাসপেন্ড

যশোরের ঐতিহ্যবাহী মধুসূদন তারাপ্রসন্ন (এমএসটিপি) বালিকা বিদ্যালয় ও কলেজের খণ্ডকালীন শিক্ষক শিমুল মণ্ডলের বিরুদ্ধে পঞ্চম শ্রেণির এক ছাত্রীকে শারীরিক নির্যাতন ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে অশোভন আচরণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

ভুক্তভোগী ছাত্রীর বাবা-মায়ের অভিযোগ, শিমুল মণ্ডলের পরিচালিত কোচিং সেন্টারে না পড়ার কারণে তাদের মেয়েকে স্কুল ছুটির পর আটকে রেখে শারীরিকভাবে নির্যাতন করা হয়। এতে ছাত্রীর শরীরে আঘাতের চিহ্ন ও ক্ষত সৃষ্টি হয়েছে বলে তারা দাবি করেন। ভয় দেখানোর কারণে কয়েক দিন বিষয়টি গোপন ছিল বলেও জানান তারা। পরে পরিবারের সদস্যরা বিষয়টি জানতে পারেন।

অভিভাবকদের অভিযোগ, বিদ্যালয়ে কোচিং বাণিজ্য এবং প্রতি সপ্তাহে ৩০০ টাকা করে শিট বিক্রির মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের ওপর চাপ সৃষ্টি করা হতো। এছাড়া কয়েকজন অভিভাবক ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে অশোভন আচরণ ও শারীরিক হয়রানির অভিযোগ করেছেন।

ঘটনার পর ভুক্তভোগী ছাত্রীর পরিবার যশোর কোতোয়ালি থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অভিযোগের পর থেকে অভিযুক্ত শিক্ষক শিমুল মণ্ডল পলাতক রয়েছেন।

বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক ফারজানা করিম ও সহকারী শিক্ষিকা সুমি খাতুন জানান, তারা ছাত্রীর শরীরে আঘাতের চিহ্ন দেখেছেন। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেন।

এমএসটিপি গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ মো. খায়রুল আনাম জানান, জেলা শিক্ষা কর্মকর্তার নির্দেশনা অনুযায়ী অভিযুক্ত খণ্ডকালীন শিক্ষক শিমুল মণ্ডলকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে আইনি প্রক্রিয়ায় তদন্ত চলছে।

এদিকে, ঘটনাটি নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন এমএসটিপির সভাপতি, যশোর পৌরসভার প্রশাসক ও স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক মো. রফিকুল হাসান। তিনি জানান, বিষয়টি নিয়ে যশোর কোতোয়ালি থানার ওসির সঙ্গে কথা হয়েছে। তদন্তে দোষী প্রমাণিত হলে ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং এ ক্ষেত্রে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *