সৌরবিদ্যুতে চলছে ২ হাজার শিক্ষার্থীর স্কুল, বিল ৩০ হাজার থেকে নেমে ৫ হাজারে

চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ের জোরারগঞ্জ বৌদ্ধ উচ্চ বিদ্যালয়ে সৌরবিদ্যুতে চলছে পাঠদানসহ বিদ্যালয়ের বিভিন্ন কার্যক্রম। ১২ কিলোওয়াট ক্ষমতার সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থায় বিদ্যালয়ের শতাধিক ফ্যান, প্রায় ১২০টি বাতি, কম্পিউটার, এসিসহ বিভিন্ন বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম চালানো হচ্ছে। এতে কমেছে লোডশেডিংয়ের ভোগান্তি, পাশাপাশি বিদ্যুৎ বিলও নেমে এসেছে পাঁচ হাজার টাকার নিচে।

সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার জোরারগঞ্জ বাজারের পশ্চিম প্রান্তে প্রশস্ত মাঠ ঘিরে দাঁড়িয়ে আছে তিনটি বহুতল ভবন। এর মধ্যে দুটি ভবনের ছাদে সারি সারি সৌর প্যানেল বসানো হয়েছে। সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত স্বাভাবিকভাবেই চলছে পাঠদান।

বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরে প্রায় দুই হাজার শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে। শিক্ষক রয়েছেন ৫৮ জন এবং কর্মচারী ১০ জন। শ্রেণিকক্ষ, শিক্ষক মিলনায়তন ও প্রশাসনিক কক্ষসহ প্রায় ৪৫টি কক্ষে বিদ্যুৎ ব্যবহার করা হয়। এসব কক্ষে ফ্যান ও বাতি রয়েছে। প্রধান শিক্ষকের কক্ষে একটি এসি এবং হিসাব শাখায় দুটি কম্পিউটারও সৌরবিদ্যুতে চলে।

বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান শিক্ষক তুষার কান্তি বড়ুয়া বলেন, মিরসরাইয়ে একটি মানসম্মত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ার লক্ষ্যে ১৯৮৮ সালে পারিবারিক এক একর জমিতে ‘শিশু কানন’ নামে প্রতিষ্ঠানটি প্রতিষ্ঠা করা হয়। অভিভাবকদের অনুরোধ ও এলাকায় শিক্ষার প্রসারে ১৯৯২ সালে এটি পূর্ণাঙ্গ উচ্চ বিদ্যালয়ে রূপান্তর করা হয়।

তিনি বলেন, বিদ্যুৎ বিলের চাপ কমাতে তিন বছর আগে সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। বিদ্যালয়ের নিজস্ব তহবিল থেকে ২৪ লাখ টাকা ব্যয়ে ঢাকার একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ১২ কিলোওয়াট ক্ষমতার সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়।

তুষার কান্তি বড়ুয়া বলেন, ‘আগে মাসে গড়ে ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা বিদ্যুৎ বিল দিতে হতো। এখন তা পাঁচ হাজার টাকার নিচে নেমে এসেছে। সৌরবিদ্যুৎ না থাকলে বর্তমান ব্যবহার অনুযায়ী মাসে ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকা বিল দিতে হতো।’

স্কুলের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী রাফি জানান, বিদ্যুৎ আছে নাকি নেই আমরা সেটা উপলব্ধি করতেই পারি না, স্কুলে সার্বক্ষণিক বিদ্যুৎ সুবিধা পাই সৌরপ্যানেল থেকে। এতে আমাদের স্বাভাবিক শ্রেণিকার্যক্রমের জন্য বেশ ভালো ব্যাপার।

বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক টুইঙ্কেল বড়ুয়া বলেন, সৌরবিদ্যুৎ চালুর পর নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ পাওয়ায় গরমের মধ্যেও ক্লাস নেওয়া সহজ হয়েছে। শিক্ষার্থীরাও স্বাচ্ছন্দ্যে পড়াশোনা করতে পারছে।

মিরসরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সোমাইয়া আক্তার বলেন, সৌরবিদ্যুৎ সাশ্রয়ী ও স্বস্তিদায়ক। সরকারও বিভিন্ন প্রণোদনার মাধ্যমে নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহারে উৎসাহিত করছে। পুরো বিদ্যালয়কে সৌরবিদ্যুতের আওতায় এনে জোরারগঞ্জ বৌদ্ধ উচ্চ বিদ্যালয় একটি অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *