১১ মাসে যা করেছি, ঢাবির ১০৫ বছরেও তা কেউ পারেনি: সাদিক কায়েম

ডেস্ক: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) দায়িত্ব নেওয়ার পর গত ১১ মাসে ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও একাডেমিক পরিবেশ নিশ্চিত করতে কাজ করেছে বলে দাবি করেছেন ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েম।

তিনি বলেন, ক্যাম্পাসে মারামারি, হানাহানি, চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি ও রাহাজানির মতো কর্মকাণ্ড শূন্যের কোটায় নামিয়ে আনা হয়েছে।

শুক্রবার (২১ আগস্ট) পটুয়াখালী জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে পটুয়াখালী ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশন আয়োজিত ‘কৃতি শিক্ষার্থী সংবর্ধনা ২০২৬’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

সাদিক কায়েম বলেন, ১১ মাসে আমরা প্রমাণ করেছি কিভাবে শিক্ষার্থীদের অধিকার নিশ্চিত করতে হয়, শিক্ষার্থীরাই বলে আমরা গত ১১ মাসে ডাকসুতে দায়িত্ব নেওয়ার পরে যে কাজ করেছি বিশ্ববিদ্যালয় ইতিহাসে ১০৫ বছরের সে কাজ করতে পারেনি। শিক্ষার্থীদের মতামতের অনুযায়ী আমরা অনেক সার্ভে করেছি শতকরা ৯৩ শতাংশ শিক্ষার্থী মনে করে। ডাকসুতে আমরা দায়িত্ব নেওয়ার পরে ক্যাম্পাসে সবচেয়ে বড় নারীরা নিরাপদে রয়েছে। ক্যাম্পাসের মধ্যে সব ধরনের মারামারি হানাহানি চাঁদাবাজি টেন্ডার বাজি রাহাজানি সবগুলোকে আমরা শূন্যের কোটায় নিয়ে এসেছি।

ডাকসুর ভিপি আরও বলেন, একই সঙ্গে ক্যাম্পাসের মূল উদ্দেশ্য হলো শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা করা গবেষণা করা চিন্তা করা প্রশ্ন করা এবং নতুন নতুন প্রযুক্তি আবিষ্কার করা। এজন্য সেই একাডেমিক পরিবেশ আমরা ইতিমধ্যে নিশ্চিত করেছি।

দেশের তরুণ প্রজন্মকে যথাযথ স্বীকৃতি ও সুযোগ না দেওয়ার বিষয়টি তুলে ধরে তিনি বলেন, আমাদের এই দেশে আমরা গত ৫৫ বছর জুড়ে আমাদের যারা নেতৃত্ব ছিল তারা আমাদেরকে নিয়ে যেভাবে ভাবা দরকার ছিল আমাদের তরুণ প্রজন্মদেরকে নিয়ে আমাদের ছাত্র-ছাত্রীদেরকে নিয়ে যেভাবে ভাবা দরকার ছিল তাদেরকে যেভাবে স্বীকৃতি দেওয়া দরকার ছিল সেটা তারা দিতে পারেনি।

সাদিক কায়েম বলেন, দীর্ঘদিনের এ ব্যর্থতার কারণেই জাতি একই বৃত্তে ঘুরপাক খাচ্ছে। দেশের মেধাবী শিক্ষার্থীরা বিদেশের নামী বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়ে নিজেদের যোগ্যতার প্রমাণ দিলেও দেশে তাদের মেধার যথাযথ বিকাশ ও কাজে লাগানোর সুযোগ তৈরি করা প্রয়োজন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন পটুয়াখালী ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আন নাহিয়ান।

আয়োজকরা জানান, দুই পর্বে অনুষ্ঠিত এ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের প্রথম পর্বে পটুয়াখালী সদর উপজেলার ২৭টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ১৩৬ জন এবং ১৫টি মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও মাদরাসার ১৬৪ জন শিক্ষার্থীকে সম্মাননা দেওয়া হয়। পঞ্চম ও অষ্টম শ্রেণির বার্ষিক পরীক্ষায় কৃতিত্ব অর্জনকারী এসব শিক্ষার্থীকে ফুল দিয়ে বরণ করে ক্রেস্ট, স্কুলব্যাগ ও কলম দেওয়া হয়।

বিকেলে দ্বিতীয় পর্বে এসএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা দেওয়ার আয়োজন করা হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *