‘লিভ ইন সন্দেহে’ বিবাহিত দম্পতির ফ্ল্যাটে বিশ্ববিদ্যালয় ৪ ছাত্রের হামলাচেষ্টা

ডেস্ক: গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের একটি দম্পতির ভাড়া বাসায় হামলার অভিযোগ উঠেছে। সাভারের আশুলিয়ার নলাম এলাকায় রোববার রাতে এ ঘটনা ঘটে। ওই দম্পতি বিয়ে না করে ‘লিভ ইন’ সম্পর্কে আছেন—এমন সন্দেহ থেকেই কয়েকজন শিক্ষার্থী বাসাটিতে গিয়ে হামলার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ।

ঘটনার সঙ্গে জড়িত চারজনই গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (গকসু) ভিপি ইয়াসিন আল মৃদুল দেওয়ান। তাদের মধ্যে একজনের পরনে গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের লোগোযুক্ত ‘শিপন’ নামের জার্সি দেখা গেছে। তবে তাদের পূর্ণ পরিচয় জানা যায়নি।

ভুক্তভোগী দম্পতির ভাষ্য, তারা দীর্ঘদিন ধরে বিবাহিত এবং দুজনই গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছিলেন। সম্প্রতি স্ত্রী বিভিন্নভাবে হয়রানির শিকার হয়ে অন্য একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছেন। বর্তমানে তারা নলাম এলাকার একটি ভাড়া বাসায় থাকেন। একই বাসায় আরও দুই নারী শিক্ষার্থী থাকেন।

রোববার রাত ৯টার দিকে ৫-৬ জনের একটি দল ওই বাসায় গিয়ে দরজায় ধাক্কাধাক্কি, লাথি ও গালিগালাজ করে বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগীরা। ওই সময় বাসায় তার স্ত্রী, দুই নারী শিক্ষার্থী এবং তাদের একজনের মা ছিলেন। তবে স্বামী বাসায় ছিলেন না। দীর্ঘ সময় ডাকাডাকি ও হামলার চেষ্টা করেও ভেতর থেকে কোনো সাড়া না পেয়ে তারা চলে যান বলে জানা গেছে।

ভুক্তভোগী স্বামী বলেন, ঘটনার সময় তিনি বাজারে ছিলেন। তার দাবি, হামলাকারীরা বাসার দরজায় লাথি ও ধাক্কা দেওয়ার পাশাপাশি ভেতরে থাকা নারীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন। ঘটনার ভিডিও ও অডিও তার কাছে রয়েছে বলেও জানান তিনি।

ভিডিও দেখে শিপন নামের এক শিক্ষার্থীকে শনাক্ত করেছেন বলে দাবি করেন ওই ব্যক্তি। তার সঙ্গে আগে কোনো বিরোধ ছিল না জানিয়ে তিনি বলেন, হঠাৎ এভাবে বাসায় আসার কারণ তিনি বুঝতে পারছেন না। তবে ঘটনার পর থেকে তিনি ও তার স্ত্রী নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।

এদিকে, বিষয়টি মীমাংসার উদ্যোগ নিয়েছেন গকসুর ভিপি ইয়াসিন আল মৃদুল দেওয়ান। তার দাবি, ওই বাসায় কয়েকজন নারী শিক্ষার্থীর পাশাপাশি একজন ছেলে থাকেন—এমন তথ্য জানতে শিক্ষার্থীরা সেখানে গিয়েছিলেন। এলাকায় আগে চুরির ঘটনা নিয়েও বিরোধ ছিল বলে জানান তিনি। তবে শিক্ষার্থীরা মারধর বা ভাঙচুর করতে গিয়েছিলেন—এমন অভিযোগ অস্বীকার করেন তিনি।

ইয়াসিন আল মৃদুল দেওয়ান আরও বলেন, শিক্ষার্থীরা বাসায় গিয়ে ডাকাডাকি করলেও কাউকে পাওয়া যায়নি। বাসা ভাঙচুরের অভিযোগও তিনি অস্বীকার করে বলেন, এ বিষয়ে সিসিটিভি ফুটেজ রয়েছে। সোমবার শিক্ষার্থী ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা করে বিষয়টি সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

তবে হামলার অভিযোগে অভিযুক্ত শিক্ষার্থীদের কারও বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

আশুলিয়া থানার ওসি তরিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অন্যদিকে, ঘটনা সম্পর্কে গণ বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *