ঢাকার ধামরাইয়ে চুরির অভিযোগে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে এক ব্যক্তিকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার সাত দিন পর নিজ বাড়িতে মারা গেছেন শঙ্কর মণ্ডল (বয়স জানা যায়নি)।
আজ সকালে ধামরাই পৌরসভার পশ্চিম কায়েতপাড়ার নিজ বাড়িতে শঙ্কর মণ্ডলের মৃত্যু হয়। তিনি ওই এলাকার বদন চন্দ্র মণ্ডলের ছেলে।
পরিবার ও পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, গত ৮ আগস্ট স্থানীয় ওয়াজেদ হাজীর রাইস মিলের একটি মোটরের যন্ত্রাংশ চুরি হয়। ওই চুরির সঙ্গে জড়িত থাকার সন্দেহে শঙ্করকে বাড়ি থেকে ডেকে নেওয়া হয়। তাঁর বাবা বদন চন্দ্র মণ্ডল ও স্থানীয় বাসিন্দা জিয়াউর রহমানও তাঁর সঙ্গে যান।
পরিবারের অভিযোগ, তাঁদের দুজনকে মিলের বাইরে পাঠিয়ে শঙ্করকে ভেতরে মারধর করা হয়। চুরির অভিযোগ স্বীকার না করায় পরে তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়। পরিবারের দাবি, মিলের ভেতরেই ওয়াজেদ হাজীর নেতৃত্বে শঙ্করকে মারধর করা হয়।
মারধরের পর শঙ্করের শারীরিক অবস্থা গুরুতর হয়ে পড়ে। তিনি ঠিকমতো হাঁটতেও পারছিলেন না। পরে তাঁকে ধামরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসকেরা উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেন। তবে অর্থের অভাবে পরিবারের পক্ষে তাঁকে ঢাকায় নেওয়া সম্ভব হয়নি।
এরপর আহত অবস্থায় নিজ বাড়িতেই ছিলেন শঙ্কর। সাত দিন পর আজ সকালে সেখানেই তাঁর মৃত্যু হয়।
শঙ্করের বাবা বদন চন্দ্র মণ্ডল বলেন, “টাকা নাই বলে ছেলেকে ঢাকায় নিতে পারিনি। আজ আমার ছেলে মারা গেছে।”
ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। চুরির অভিযোগের সত্যতা যাচাই ও আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে কাউকে মারধরের মাধ্যমে শাস্তি দেওয়ার অভিযোগ গুরুতর প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। অভিযোগের সত্যতা ও মৃত্যুর কারণ তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।
ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে শঙ্করের পরিবার।