বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে এক স্কুল শিক্ষিকাকে দুই বছর ধরে একাধিকবার ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে কুষ্টিয়ার এক ব্যাংক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। শুধু তাই নয়, বিয়ের জন্য চাপ দেওয়ার পর ওই শিক্ষিকাকে নানা ধরনের হুমকি-ধামকি এবং হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি। এ ঘটনায় বিচার চেয়ে থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগী। তার অভিযোগ, অগ্রণী ব্যাংকের কুষ্টিয়া থানাপাড়া শাখার ম্যানেজার রিপন উদ্দিন বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে তার সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলেন। পরে সেই সম্পর্কের সুযোগ নিয়ে একাধিকবার ধর্ষণ করা হয় তাকে। তবে বিয়ের জন্য চাপ দেওয়ার পরই বদলে যায় পরিস্থিতি। বাংলাটিভি অ্যাপ
২০২৪ সালে আইএলটিএস কোর্স করার সুবাদে ওই স্কুল শিক্ষিকার সঙ্গে পরিচয় হয় ব্যাংক কর্মকর্তা রিপন উদ্দিনের। এরপর ফোনে নিয়মিত কথোপকথন থেকে বাড়তে থাকে ঘনিষ্ঠতা। একপর্যায়ে রিপন উদ্দিন তাকে বিয়ের প্রস্তাব দেন বলে অভিযোগ শিক্ষিকার। এরপর প্রায় দুই বছর ধরে বিয়ের আশ্বাসে একাধিকবার শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনে বাধ্য করা হয় বলে দাবি তার। কিন্তু সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে বিয়ের বিষয়ে চাপ দিলে শুরু হয় বিরোধ। শিক্ষিকার অভিযোগ, বিয়ে না করার জন্য তাকে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি দেখানো হয়। এমনকি গায়ে আগুন দিয়ে হত্যার চেষ্টাও করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।
ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে স্থানীয়দের মধ্যে। অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত করে অভিযুক্ত ব্যাংক কর্মকর্তাকে দ্রুত আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন মানবাধিকারকর্মী ও সচেতন নাগরিকরা। তাদের ভাষ্য, একজন নারীর সঙ্গে সম্পর্কের নামে প্রতারণা, নির্যাতন কিংবা সহিংসতার অভিযোগ উঠলে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা প্রয়োজন। তবে অভিযোগের বিষয়ে ক্যামেরার সামনে কথা বলতে রাজি হননি ব্যাংক কর্মকর্তা রিপন উদ্দিন। তার বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করা হলেও তিনি এ বিষয়ে প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করতে চাননি।
অন্যদিকে, স্কুল শিক্ষিকার করা অভিযোগ পাওয়ার কথা স্বীকার করেছে পুলিশ। কুষ্টিয়া মডেল থানা জানিয়েছে, অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা ও ঘটনার সঙ্গে কারও সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এখন ভুক্তভোগী শিক্ষিকার দাবি, তিনি যেন ন্যায়বিচার পান এবং অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা সামনে আসে। আর স্থানীয়দের প্রত্যাশা—অভিযোগটি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে দায়ী ব্যক্তির বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হোক।