যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (যবিপ্রবি) ক্যাম্পাসে বহিরাগতদের প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ ও নারী শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণসহ ১০ দফা দাবিতে প্রক্টর বরাবর স্মারকলিপি দিয়েছে সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘উন্নত মমশির’।
শনিবার (৮ আগস্ট ২০২৬) সকাল ১০টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনে প্রক্টরের কার্যালয়ে এ স্মারকলিপি জমা দেন সংগঠনের প্রতিনিধিরা।
স্মারকলিপিতে উল্লেখিত মূল দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে— ক্যাম্পাসে বহিরাগতদের প্রবেশে কঠোর নিষেধাজ্ঞা, গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে কার্যকর সিসিটিভি ক্যামেরা মনিটরিং, ইভটিজিং ও হয়রানির সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ও আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ, অননুমোদিত ভিডিও ধারণ ও টিকটক নিষিদ্ধ করা, এবং বেপরোয়া মোটরসাইকেল চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা। এছাড়া নিরাপত্তায় নিয়োজিত আনসার সদস্যদের নিয়মিত প্রশিক্ষণ প্রদান ও তাদের সার্বিক কার্যক্রম তদারকির দাবি জানানো হয়।
জানা যায়, গতকাল শুক্রবার (৭ আগস্ট) ক্যাম্পাসে ঘুরতে আসা কয়েকজন বহিরাগত যুবকের বিরুদ্ধে নারী শিক্ষার্থীদের ইভটিজিং, অনুমতি ছাড়া ভিডিও ধারণ ও কুদৃষ্টিতে তাকানোর অভিযোগ ওঠে। অভিযুক্তরা হলেন স্থানীয় আড়ারদাহ গ্রামের ইউপি সদস্য সিরাজুল ইসলামের ছেলে সুজন, একই গ্রামের আব্দুর রহমান এবং ফুলসরা গ্রামের হাসিবসহ নাম না জানা আরও কয়েকজন।
এ বিষয়ে উন্নত মমশির ক্লাবের সভাপতি আল শাহরিয়ার রাফিদ ও সাধারণ শিক্ষার্থী নাঈমা খান জানান, বহিরাগতদের অনাকাঙ্ক্ষিত আচরণ ও ভিডিও ধারণের প্রতিবাদে তারা প্রক্টরের শরণাপন্ন হয়েছেন। ভবিষ্যতে যেন কোনো শিক্ষার্থী ক্যাম্পাসে হয়রানির শিকার না হন, সে জন্য দায়ীদের চিহ্নিত করে শাস্তির আওতায় আনার দাবি জানান তারা।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে যবিপ্রবির প্রক্টর ড. মোঃ হামিদুর রহমান বলেন, “বিষয়টি ইতোমধ্যে আমাদের নজরে এসেছে। অভিযুক্ত বহিরাগতদের অভিভাবকসহ বিশ্ববিদ্যালয়ে তলব করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়ার পাশাপাশি চৌগাছা থানা পুলিশকে অবহিত করা হয়েছে।” বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আনসার সদস্যদের বিশেষ নির্দেশনা প্রদান ও তদারকি জোরদার করা হবে বলে আশ্বাস দেন তিনি।