ত্রিপুরার পাহাড়ি ঢলে আখাউড়ার ১৫ গ্রাম প্লাবিত, পানিবন্দি ৩২ পরিবার

নিজস্ব প্রতিবেদক।।

ভারতের ত্রিপুরা রাজ্য থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকার অন্তত ১৫টি গ্রামের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। এতে কৃষিজমি, মাছের ঘের ও সবজির ক্ষেত পানির নিচে তলিয়ে গেছে। পানিবন্দি হয়ে পড়া কয়েকটি পরিবারের সদস্যরা বাড়িঘর ছেড়ে স্বজনদের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন।

সোমবার (২৪ আগস্ট) ভোররাত থেকে হঠাৎ করে ত্রিপুরা থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের পানি উপজেলার হাওড়া নদী, জাজির খাল ও কালন্দী খাল দিয়ে প্রবল বেগে প্রবেশ করতে শুরু করে। পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় আখাউড়া স্থলবন্দর এলাকার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের অফিস ও আশপাশের কয়েকটি বাড়িতেও পানি প্রবেশ করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, পানি অব্যাহতভাবে বাড়তে থাকায় নিম্নাঞ্চলের ফসলের জমি ও মাছের ঘের তলিয়ে গেছে। এতে কৃষক ও মাছচাষিরা ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা করছেন।

প্লাবিত এলাকাগুলোর মধ্যে রয়েছে আখাউড়া উপজেলার দক্ষিণ ইউনিয়নের আনোয়ারপুর, হিরাপুর, আব্দুল্লাহপুর, ধলেশ্বর, বঙ্গের চর, বাউতলা, বীরচন্দ্রপুর, সাহেবনগর ও উমেদপুর। এছাড়া আখাউড়া পৌর এলাকার নারায়ণপুর, তারাগন ও ধাতুর পহেলাসহ কয়েকটি গ্রামেও পানি প্রবেশ করেছে। একইভাবে মোগড়া ইউনিয়নের কর্নেল বাজার এবং মনিয়ন্দ ইউনিয়নের বিভিন্ন নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে।

পানিবন্দি পরিবারের সদস্যরা জানান, হঠাৎ পানি বাড়ায় অনেকে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নিয়ে নিরাপদ স্থানে ও স্বজনদের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন। পানি আরও বাড়লে দুর্ভোগ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কয়েকগুণ বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

বীরচন্দ্রপুর গ্রামের কৃষক মনু মিয়া বলেন, “ধানের জমি পানির নিচে চলে গেছে। এভাবে পানি আরও বাড়তে থাকলে বড় ধরনের ক্ষতি হবে। কৃষকদের পাশে দাঁড়াতে সরকারের দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।”

আখাউড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাপসী রাবেয়া জানান, ভারতীয় পাহাড়ি ঢলে উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণের কাজ করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত ৩২টি পরিবার পানিবন্দি রয়েছে এবং প্রায় ১ হাজার ৪০০ হেক্টর ফসলি জমি পানির নিচে রয়েছে।

তবে দুপুরের পর থেকে পানির উচ্চতা কিছুটা কমতে শুরু করায় আখাউড়ার সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির সামান্য উন্নতি হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *