ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) আল কুরআন অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী সাজিদ আবদুল্লাহ হত্যাকাণ্ডের ১৩ মাস পার হয়েছে। তবে দীর্ঘ সময় তদন্ত কাজ চালিয়েও তেমন কোনো অগ্রগতি দেখাতে পারেনি ক্রিমিনাল ইনভেস্টিগেশন ডিপার্টমেন্ট (সিআইডি)। এমনকি নিহত সাজিদের ফোনের লকও খুলতে পারেনি সংস্থাটি। একই সঙ্গে হত্যাকাণ্ড ঘিরে শিক্ষার্থীদের মধ্যে থাকা নানান অমীমাংসিত প্রশ্নেরও তেমন কোনো সদুত্তর বের করতে পারেনি তারা। যে কারণে প্রতিনিয়ত বেড়েই চলছে তদন্তের এ দীর্ঘসূত্রিতা।
এদিকে সিআইডির তদন্তেও এ মামলার কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি না হওয়ায় একের পর এক বিক্ষোভ, মানববন্ধন ও প্রতিবাদ কর্মসূচিতে উত্তাল হয়ে ওঠে ক্যাম্পাস। পরে বাধ্য হয়ে তৎকালীন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সিআইডিকে দিয়ে কিছুদিন পরপর ছাত্রনেতৃবৃন্দ ও সাংবাদিকদের সামনে মামলার অগ্রগতি নিয়ে ব্রিফিং করাতো। তবে আশাব্যঞ্জক কোনো ফল জানাতে না পারায় একসময় সেই ব্রিফিংও বন্ধ হয়ে যায়।
এভাবেই আট মাস পার হওয়ার পর সাজিদের বাবার আবেদনে চলতি বছরের মে মাসে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সাইফুল ইসলামকে বদলে মহব্বত হোসেনকে দায়িত্ব দেয়া হয়। তবে নতুন এ কর্মকর্তাও এ মামলার তেমন কোনো অগ্রগতি দেখাতে পারেননি বলে অভিযোগ শিক্ষার্থীদের।
এদিকে সাজিদের মৃত্যুর পরও কয়েকবার তার মোবাইলে কল রিসিভ হয়। কিন্তু ওই কলগুলো কে রিসিভ করেছিলেন, তার উত্তর মেলেনি। যে কারণে সার্বিক তদন্তের জন্য সাজিদের ফোনটি হেফাজতে নিয়েছিল সিআইডি। তবে দীর্ঘ ১৩ মাসেও ওই ফোনের লক খুলতে পারেনি সংস্থাটি।
এ বিষয়ে নতুন দায়িত্বপ্রাপ্ত তদন্ত কর্মকর্তা মহব্বত হোসেন গণমাধ্যমকে বলেন, সাজিদের ফোনের লক খোলার জন্য আমরা এক্সপার্টের কাছে পাঠালেও তারা লক খুলতে পারেননি। রেজাল্ট নেগেটিভ এসেছে। তবে এ ব্যাপারে তাদের সঙ্গে পুনরায় কথা বলব। অন্য কোনো পদ্ধতিতে লক খোলা সম্ভব হলে অবশ্যই সেই পদ্ধতি গ্রহণের ব্যাপারে পদক্ষেপ নেব।
তিনি আরও বলেন, বিভিন্ন দিক দিয়েই তদন্ত এগোনোর জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। একে গাফিলতি বলার সুযোগ নেই। পারিপার্শ্বিক সাক্ষীদের আমরা প্রতিনিয়ত জিজ্ঞাসাবাদ করছি। তদন্তের স্বার্থে আমরা সবকিছু প্রকাশ করতে পারছি না।