সীতাকুণ্ডে জেলেপাড়ায় হিন্দু গৃহবধূকে অস্ত্রের মুখে ধর্ষণের চেষ্টা, তিন পরিবারের ঘরে লুট

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার বাড়বকুণ্ড ইউনিয়নের জেলেপাড়া এলাকায় এক সনাতনী জেলে পরিবারের গৃহবধূকে দেশীয় অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে ধর্ষণের চেষ্টা এবং একই রাতে তিনটি জেলে পরিবারের ঘরে ঢুকে নগদ অর্থ ও মোবাইল ফোন লুটের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় পাশের জুদারপাড়া এলাকার বাসিন্দা রবিউল হোসেন (২৯)-কে অভিযুক্ত করে সীতাকুণ্ড মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে ভুক্তভোগী পরিবার।
অভিযোগ অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত আনুমানিক ১টার দিকে ঘটনাটি ঘটে। ভুক্তভোগী গৃহবধূ পূজা দাশ (১৯) বাড়িতে একা অবস্থায় ছিলেন। তার স্বামী বিপ্লব দাশসহ এলাকার অন্যান্য জেলেরা সাগরে মাছ ধরতে গেলে অভিযুক্ত ব্যক্তি ঘরে প্রবেশ করে দেশীয় অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে তাকে জিম্মি করে ধর্ষণের চেষ্টা চালায় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। একপর্যায়ে গৃহবধূ চিৎকার শুরু করলে আশপাশের লোকজন এগিয়ে আসার চেষ্টা করলে অভিযুক্ত ব্যক্তি ঘরে থাকা নগদ টাকা ও একটি মোবাইল ফোন নিয়ে দ্রুত পালিয়ে যায় বলে পরিবারের দাবি।
ভুক্তভোগীর স্বামী বিপ্লব দাশ জানান, সকালে মাছ ধরা শেষে বাড়িতে ফিরে তিনি স্ত্রীকে কান্নারত অবস্থায় দেখতে পান। পরে স্ত্রী তার কাছে রাতের ঘটনার বর্ণনা দেন এবং জানান যে, অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে তাকে ধর্ষণের চেষ্টা করা হয়।
স্থানীয়দের দাবি, একই রাতে অভিযুক্ত ব্যক্তি আরও দুটি জেলে পরিবারের ঘরে ঢুকে নগদ অর্থ ও মোবাইল ফোন লুট করে। তাদের অভিযোগ, অভিযুক্ত রবিউল হোসেন ও তার সহযোগীরা দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত এবং তাদের বিরুদ্ধে অতীতেও একাধিক অভিযোগ রয়েছে।
ঘটনার পর ভুক্তভোগী পূজা দাশ, তার স্বামী বিপ্লব দাশ এবং পরিবারের সদস্য অমল দাশ ও শান্তি রাণী দাশ সীতাকুণ্ড মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। ভুক্তভোগী পরিবার জানিয়েছে, ঘটনার পর তারা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন এবং অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে সীতাকুণ্ড মডেল থানার পুলিশ জানিয়েছে, লিখিত অভিযোগ গ্রহণ করা হয়েছে। অভিযোগটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে প্রয়োজনীয় অভিযান পরিচালনা করা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *