চট্টগ্রাম নগরীতে একের পর এক শিশু ধর্ষণ ও ধর্ষণচেষ্টার ঘটনায় উদ্বেগ বাড়ছে। বাকলিয়ার সংঘর্ষময় ঘটনার রেশ না কাটতেই গত ২৪ ঘণ্টায় নগরীতে আরও তিনটি ধর্ষণ ও ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ সামনে এসেছে। সর্বশেষ শুক্রবার রাত ১০টার দিকে খুলশী থানার আমবাগান এলাকায় দুই শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে এক মাদ্রাসা শিক্ষককে পুলিশি হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
খুলশী আবহাওয়া অফিসসংলগ্ন রেললাইনের পাশের একটি মসজিদসংলগ্ন মক্তবে এ ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত আব্দুল বাতেনের বাড়ি কুমিল্লায়। শিক্ষকতার সুবাদে তিনি ওই এলাকাতেই থাকতেন। পুলিশ জানিয়েছে, ভুক্তভোগী দুই বোনেরও শিক্ষক ছিলেন তিনি। শিশু দুটির বয়স আনুমানিক ১০ ও ৬ বছর।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, অভিযোগটি গুরুত্ব দিয়ে যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। ঘটনার বিস্তারিত জানতে অভিযুক্ত শিক্ষক ও ভুক্তভোগী দুই বোনকে খুলশী থানায় নেওয়া হয়েছে।
বিষয়টি নিশ্চিত করে খুলশী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আরিফুর রহমান বলেন, অভিযোগটি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে যাচাই করা হচ্ছে। বিস্তারিত পরে জানানো হবে।
এর আগে শুক্রবার (২২ মে) দুপুর দুইটার দিকে নগরের বায়েজিদ থানার মোহাম্মদ নগর এলাকা থেকে পাঁচ বছরের এক শিশুকন্যাকে ধর্ষণের অভিযোগে মোহাম্মদ হাসান নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। অভিযোগ রয়েছে, বৃহস্পতিবার রাতে ১০ টাকার প্রলোভন দেখিয়ে শিশুটিকে ঘরে নিয়ে ধর্ষণ করা হয়। পরে শিশুটি পরিবারের সদস্যদের ঘটনাটি জানায়। এরপর ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় মামলা করা হয়।
বায়েজিদ থানার তদন্ত কর্মকর্তা মোস্তফা কামাল বলেন, পরিবারের করা মামলার ভিত্তিতে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁকে নিরাপদ স্থানে রাখা হয়েছে।
অন্যদিকে শুক্রবার দুপুর দেড়টার দিকে নগরের ডবলমুরিং থানার হাজীপাড়া এলাকায় সাত বছরের এক শিশুকন্যাকে ধর্ষণের অভিযোগে স্থানীয় লোকজন এক যুবককে আটক করে মারধর করেন। পরে তাঁকে নিতে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে স্থানীয়দের বিক্ষোভের মুখে পড়েন পুলিশ সদস্যরা। প্রায় দুই ঘণ্টা হাজীপাড়ায় অবরুদ্ধ অবস্থায় থাকতে হয় পুলিশ ও অভিযুক্তকে।
পরে বিচারের আশ্বাস দিলে অভিযুক্তকে থানায় নিয়ে যেতে সক্ষম হন ডবলমুরিং থানার পুলিশ সদস্যরা। তবে এ ঘটনায় অভিযুক্তের পরিচয় জানা যায়নি।
চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের সহকারী কমিশনার আমিনুর রশিদ বলেন, ঘটনাটি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে পুলিশ অবরুদ্ধ থাকার বিষয়টি তিনি এড়িয়ে যান।
এর আগে বৃহস্পতিবার নগরের বাকলিয়া এলাকায় চার বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের ঘটনায় পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। বিকেল পাঁচটা থেকে মধ্যরাত দুইটা পর্যন্ত স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ চলে। এতে পুলিশের কাঁদানে গ্যাস, সাউন্ড গ্রেনেড ও রাবার বুলেটে দুই সাংবাদিকসহ অন্তত ৩০ জন আহত হন।