নড়াইলে নামযজ্ঞের মেলায় হিন্দু কলেজছাত্রী পূর্বা সোমকে দুর্বৃত্তের ছুরিকাঘাত - sanatanitv

নড়াইলে নামযজ্ঞের মেলায় হিন্দু কলেজছাত্রী পূর্বা সোমকে দুর্বৃত্তের ছুরিকাঘাত

লেখক: প্রতিবেদক ঢাকা
প্রকাশ: মে ১৯, ২০২৬

নড়াইল সদরে হিন্দুধর্মাবলম্বীদের নামযজ্ঞের মেলায় গিয়ে এক দুর্বৃত্তের অতর্কিত ছুরিকাঘাতে পূর্বা সোম (২১) নামের এক কলেজছাত্রী গুরুতর আহত হয়েছেন। রোববার (১৭ মে) রাত পৌনে ১২টার দিকে সদরের পঙ্কবিলা সর্বজনীন পূজামণ্ডপে এই হামলার ঘটনা ঘটে। আহত ওই শিক্ষার্থীকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

​আহত পূর্বা সোম সদরের ভাওখালী এলাকার পরিতোষ সোমের মেয়ে। তিনি নড়াইল সরকারি ভিক্টোরিয়া কলেজের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। এই ঘটনার পর থেকে স্থানীয় সনাতন ধর্মাবলম্বী ও সাধারণ মানুষের মাঝে তীব্র ক্ষোভ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।

​ভুক্তভোগীর পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সদরের পঙ্কবিলা সর্বজনীন পূজামণ্ডপে তিন দিনব্যাপী নামযজ্ঞ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল। রোববার সন্ধ্যায় পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ওই ধর্মীয় অনুষ্ঠানে অংশ নেন পূর্বা। রাত পৌনে ১২টার দিকে অনুষ্ঠান শেষে বাড়ি ফেরার ঠিক আগমুহূর্তে মন্দির প্রাঙ্গণের মেলার একটি পানের দোকানের সামনে দাঁড়ান তিনি। এ সময় মেলার ভিড়ের সুযোগ নিয়ে পেছন থেকে পূর্বাকে ধারালো ছুরি দিয়ে আঘাত করে দ্রুত পালিয়ে যায় এক দুর্বৃত্ত।

​পরে রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে স্বজন ও স্থানীয়রা দ্রুত নড়াইল জেলা হাসপাতালে নিয়ে যান। হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক জানিয়েছেন, কোমরের পেছনে ছুরিকাঘাতের কারণে বেশ রক্তক্ষরণ হয়েছে। তবে জরুরি চিকিৎসা দেওয়ার পর বর্তমানে পূর্বা শঙ্কামুক্ত রয়েছেন।

​ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর বাবা পরিতোষ সোম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, পরিবারের সবাইকে নিয়ে পবিত্র নামযজ্ঞের অনুষ্ঠানে গিয়েছিলাম। সেখানে আমার মেয়েকে পেছন থেকে ছুরি মারা হলো। এমন একটি ধর্মীয় ও উৎসবের অনুষ্ঠানে এই ধরনের ন্যক্কারজনক ঘটনা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।

​তিনি আরও জানান, মাত্র মাস তিনেক আগে এক রাতে দোকান থেকে বাড়ি ফেরার পথে তাকেও (পরিতোষ সোম) ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করেছিল দুর্বৃত্তরা। সেই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই এবার মেয়ের ওপর এই হামলা হলো। পরপর এমন হামলার ঘটনায় পুরো পরিবার ও তাঁদের পাড়ার বাসিন্দারা চরম নিরাপত্তাহীনতা ও আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। তবে কী কারণে এই শত্রুতা বা হামলা, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য দিতে পারেনি পরিবারটি।

​এ বিষয়ে নড়াইল সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অজয় কুমার কুণ্ডু জানান, খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। ধর্মীয় মেলায় এ ধরনের হামলার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে। তদন্ত সাপেক্ষে হামলার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন এবং ঘটনার সাথে জড়িত অপরাধীকে দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে পুলিশ কাজ শুরু করেছে।