পূর্বঘোষণা ছাড়াই চন্দ্রনাথ ধাম পরিদর্শনে ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনার

সীতাকুণ্ড (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি

কোনো পূর্বঘোষিত কর্মসূচি ছাড়াই চট্টগ্রামে নবনিযুক্ত ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনার শ্রী হরিশ কুমার সীতাকুণ্ডের ঐতিহাসিক চন্দ্রনাথ ধাম ও সতীপীঠ পরিদর্শন করেছেন। এ সফর সম্পর্কে স্থানীয় প্রশাসন, পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট ধর্মীয় সংগঠনের অনেকেই আগে থেকে জানতেন না বলে দাবি করেছেন।

মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) দুপুরে স্বল্পসংখ্যক সহযোগী নিয়ে তিনি চন্দ্রনাথ ধামে যান বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে। সফরকালে তিনি ৫১ সতীপীঠের অন্যতম মা ভবানী মন্দিরে প্রার্থনায় অংশ নেন। পরে পাহাড়চূড়ার শ্রী শ্রী ক্রমদীশ্বর স্বয়ম্ভুনাথ মন্দির, শ্রী শ্রী ভৈরব মন্দির, ব্যাসকুণ্ডসহ বিভিন্ন ধর্মীয় ও ঐতিহাসিক স্থাপনা পরিদর্শন করেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের ভাষ্য, সফরের সময় সহকারী হাইকমিশনার মন্দিরগুলোর বর্তমান অবস্থা, সংরক্ষণ কার্যক্রম, অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং তীর্থযাত্রীদের সুযোগ-সুবিধা সম্পর্কে খোঁজ নেন।

সীতাকুণ্ড উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফখরুল ইসলাম বলেন, ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনারের সফরের বিষয়ে তাঁর কাছে কোনো পূর্ব তথ্য ছিল না। তিনি বলেন, “এ বিষয়ে আমি কিছুই জানি না। তবে হয়তো পুলিশ জানতে পারে।”

তবে সীতাকুণ্ড থানার ওসি (তদন্ত) আলমগীর হোসেন বলেন, সফর সম্পর্কে থানা পুলিশের কাছেও কোনো তথ্য ছিল না। এমনকি ডিএসবির কাছেও এ-সংক্রান্ত আগাম তথ্য ছিল না বলে তিনি জানান।

সীতাকুণ্ড শ্রাইন কমিটির সাবেক সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট সুকুমার চক্রবর্তী বলেন, সহকারী হাইকমিশনারের আগমনের বিষয়ে তাঁদের আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি। তাঁর ধারণা, তিনি শঙ্করমঠ মন্দির পরিদর্শনের উদ্দেশ্যে এলাকায় আসতে পারেন।

চট্টগ্রাম উত্তর জেলা হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান কল্যাণ ফ্রন্টের আহ্বায়ক জিতেন্দ্র নারায়ণ দাস নাটু বলেন, তিনি ফেসবুকের মাধ্যমে সফরের খবর জানতে পেরেছেন। এ ছাড়া তাঁর কাছে বিস্তারিত কোনো তথ্য নেই।

সীতাকুণ্ড জগন্নাথ মন্দিরের সভাপতি মনোজ কুমার নাথ বলেন, উপজেলা ও পৌরসভা পূজা উদযাপন পরিষদের সংশ্লিষ্ট নেতারাও এ সফরের বিষয়ে কিছু জানতেন না।

উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি অমলেন্দু কনক বলেন, তিনি আস্তানবাড়ি এলাকায় সহকারী হাইকমিশনারের গাড়ি দেখেছেন। তবে আগমনের বিষয়ে কোনো তথ্য না থাকায় তিনি সেখানে যাননি। সফরটি কারা সমন্বয় করেছেন, তা স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনের পক্ষ থেকে সফরের উদ্দেশ্য নিয়ে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

স্থানীয়দের মতে, চন্দ্রনাথ ধাম বাংলাদেশের অন্যতম প্রাচীন ও গুরুত্বপূর্ণ তীর্থস্থান। প্রতিবছর শিবচতুর্দশী মেলা উপলক্ষে বাংলাদেশ, ভারতসহ বিভিন্ন দেশ থেকে হাজার হাজার পুণ্যার্থী এখানে আসেন। আকস্মিক এ সফর নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে কৌতূহল ও আলোচনা চলছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *