ভালো বেতনে চাকরির প্রলোভনে গৃহবধূকে হোটেলে আটকে ‘দেহব্যবসা’

ভালো কোম্পানিতে উচ্চ বেতনে চাকরি দেওয়ার কথা বলে এক গৃহবধূকে টানা তিনদিন আবাসিক হোটেলে আটকে রেখে দেহব্যবসায় বাধ্য করার অভিযোগ উঠেছে।

এ ঘটনায় নগরীর চকবাজার এলাকাধীন বিউটি রোডের ‘হোটেল স্বাগতম’-এর মালিক ও ম্যানেজারসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)।

মঙ্গলবার দুপুরে তাদের আটক করা হয়। ভুক্তভোগী গৃহবধূ বাদী হয়ে বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানায় মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন আইনে মামলা করেছেন।

বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) পরিদর্শক হেলালুজ্জামান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- হোটেল স্বাগতমের মালিক ভিরাজ মোল্লা, ম্যানেজার সবুজ এবং দালাল মিজান ও ইমরান। বিকালে আদালতের মাধ্যমে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

ভুক্তভোগী নারী জানান, তার স্বামী বরিশাল নগরীর লঞ্চঘাট এলাকায় পানি বিক্রি করেন। সংসারের অস্বচ্ছলতার কারণে তিনি ঢাকায় একটি গার্মেন্টসে চাকরি করতেন। সেই অসহায়ত্বের সুযোগ নেয় হোটেল স্বাগতমের ম্যানেজার সবুজ।

তিনি বলেন, “সবুজ আমার স্বামীর পূর্ব পরিচিত। সেই সুবাদে আমাকে বরিশালে একটি ভালো কোম্পানিতে ৩০-৩৫ হাজার টাকা বেতনে চাকরি পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে তিনদিন আগে ঢাকা থেকে নিয়ে আসে।”

চাকরি দেওয়ার কথা বলে তাকে হোটেল স্বাগতমে আটকে রাখা হয়। সেখানে টানা তিনদিন তাকে দেহব্যবসায় বাধ্য করা হয়েছে। এই তিনদিনে অন্তত সাতবার তার সঙ্গে অনৈতিক কাজ করা হয় বলে জানান ভুক্তভোগী।

তিনি বলেন, “আমার স্বামী বিষয়টি জানতেন না। ১১ মে তিনি বিষয়টি জানতে পেরে আমাকে নিতে আসেন। কিন্তু হোটেলের লোকজন আমাকে বের হতে দেয়নি। পরে ডিবি পুলিশের কাছে অভিযোগ দিলে মঙ্গলবার দুপুরে তারা গিয়ে আমাকে উদ্ধার করে।”

বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা শাখার পরিদর্শক হেলালুজ্জামান বলেন, “অভিযোগ পেয়ে আমরা হোটেল স্বাগতমে অভিযান চালিয়ে মালিক ও ম্যানেজারসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছি। তাদের বিরুদ্ধে ভুক্তভোগী বাদী হয়ে মামলা করেছেন।”

তিনি আরও জানান, দুদিন আগে একই এলাকার একটি আবাসিক হোটেলে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। ওইদিন থেকেই নগরীর আবাসিক হোটেলগুলোতে ডিবি পুলিশের অভিযান আরও জোরদার করা হয়েছে। বিএমপি কমিশনারের নির্দেশ অনুযায়ী, বরিশাল নগরীর হোটেলগুলোতে কোনোভাবেই অনৈতিক ব্যবসা চলতে দেওয়া হবে না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *