সেই ছবি পোস্ট নিয়ে আলোচনা, ব্যাখ্যা দিলেন এসিল্যান্ড

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে চা বাগানে তোলা নিজের ছবি ও ‘প্রটোকলের ফাঁকে সেল্ফ প্রটোকল’ ক্যাপশন নিয়ে আলোচনার মধ্যে ব্যাখ্যা দিয়েছেন হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মৈত্রী রায়।

শনিবার (৭ নভেম্বর) দুপুরে নিজের ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে মৈত্রী রায় লিখেছেন, ‘প্রটোকলের ফাঁকে সেল্ফ প্রটোকল’, ‘ওকে লেট মি ক্লিয়ার…’।

পোস্টে এসিল্যান্ড লিখেছেন, গত ৪ নভেম্বর প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ মাধবপুরের দুটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করেন। তবে তিনি কোনো চা বাগান পরিদর্শনে যাননি। প্রতিমন্ত্রীকে বিদায় জানিয়ে কার্যালয়ে ফেরার পথে চা বাগানের সৌন্দর্য দেখে সেখানে দাঁড়িয়ে ছবি তোলেন তিনি।

তিনি লেখেন, গত ৪ তারিখ (নভেম্বর) প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজের দুটি স্কুল পরিদর্শন ছিল মাধবপুর উপজেলায়। এ উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) হিসেবে আমিও ছিলাম প্রটোকলের দায়িত্বে। প্রতিমন্ত্রী দুটি স্কুল পরিদর্শন করেন এবং দুপুরের খাবার গ্রহণের পর উনি সেখান থেকেই বিদায় নেন। উনি কোনো চা বাগান ভিজিটে যাননি, তাই চা বাগানে আমি উনাকে কোনো প্রটোকল দেইনি।

এসিল্যান্ড লেখেন, আমি উনাকে বিদায় দিয়ে অফিসে ব্যাক করার সময় চা বাগানের ল্যান্ডস্কেপ দেখে আমার মনে হয়েছে এখানে দাঁড়িয়ে কিছু ছবি তোলা যায়। সেই ছবিতেই আমি ক্যাপশন দিয়েছিলাম ‘প্রটোকলের ফাঁকে সেল্ফ প্রটোকল’। যেহেতু আমরা পার্সোনাল সময় তেমন পাই না তাই কাজের মধ্যেই ২-৪ মিনিট নিজের জন্য বের করি। আর এটা যেহেতু আমার পার্সোনাল আইডি তাই ক্যাপশনটাও আমি হাইপোথিটিক্যাল দিয়েছিলাম।

ছবি তোলার প্রেক্ষাপট তুলে ধরে তিনি লেখেন, এখন ছবি তোলা নিয়ে যাদের সমস্যা তাদের জন্য বলি: সরকারি চাকরিতে নিজের ছবি তোলা যাবে না এবং সে ছবি নিজের পার্সোনাল আইডি থেকে শেয়ার করা যাবে না…এমন কোনো আইন আমার জানা নেই। সরকারি কর্মচারি হিসেবে নিজের উপজেলার সুন্দর জায়গা প্রমোট করাটাও আমার দায়িত্ব। মাধবপুর, চুনারুঘাট, বাহুবলে ছবি তুলে মানুষ ক্যাপশন দেয় শ্রীমঙ্গল। সে জানেও না এটা হবিগঞ্জ…।

গণমাধ্যমের ভূমিকা নিয়েও হতাশা প্রকাশ করেন এসিল্যান্ড মৈত্রী রায়। লেখেন, ‘লাস্টলি, আমি হতাশ প্রথম সারির একটা গণমাধ্যম কোনো ব্যক্তির পারমিশন ছাড়া তার পার্সোনাল ছবি এভাবে পোস্ট করেছে এবং বিতর্কিত একটি ক্যাপশন ব্যবহার করেছে।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *