ভোলা সদর উপজেলা থেকে নদী পথে পাচারকালে ২৯০ বস্তা সরকারি সার জব্দ করেছেন স্থানীয় কৃষকরা। তাদের অভিযোগ, ভোলার কৃষকদের জন্য বরাদ্দ সরকারি সার তাদের না দিয়ে অতিরিক্ত দামে বিক্রির উদ্দেশ্যে ভোলার বাইরে পাচার করা হচ্ছিল।
খবর পেয়ে উপজেলা প্রশাসন ঘটনাস্থলে গিয়ে সারগুলো উদ্ধার করে একটি গোডাউনে রেখে সিলগালা করে দেয়। এ ঘটনায় উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাকে দায়ী করেছে বাংলাদেশ কৃষক ঐক্য ফাউন্ডেশন।
বুধবার (৪ নভেম্বর) সারগুলো একটি গুদামে রেখে সেটি সিলগালা করা হয়। এর আগে, মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) দিবাগত রাতে উপজেলার পূর্ব ইলিশা ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের পাকারমাথা এলাকার দারোগার খাল থেকে এসব সার আটক করা হয়।
সংশ্লিষ্টরা জানান, মঙ্গলবার রাতের আঁধারে একটি নসিমনে করে সার এনে দারোগার খালে আগে থেকে নোঙর করে রাখা একটি ট্রলারে বোঝাই করা হচ্ছিল। এমন গোপন খবরের ভিত্তিতে স্থানীয় কৃষকরা সেখানে গিয়ে সারের কাগজপত্র দেখতে চান। ট্রলারসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বৈধ কাগজপত্র দেখাতে না পারায় বিক্ষুব্ধ কৃষকরা সারগুলো আটক করেন। আটক সারের মধ্যে ছিল ১৮০ বস্তা ডিএপি ও ১১০ বস্তা টিএসপি।
ট্রলারের লোকজনের দাবি, তারা ভোলার এক স্থানীয় সার ডিলারের কাছ থেকে এসব সার কিনে চরাঞ্চলের কৃষকদের কাছে নিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন।
অন্যদিকে বিক্ষুব্ধ কৃষকদের দাবি, অসাধু ডিলাররা সাধারণ কৃষকদের কাছে সরকার নির্ধারিত দামে সার বিক্রি না করে অতিরিক্ত লাভের আশায় ভোলার বাইরে পাচার করছিল।
বাংলাদেশ কৃষক ঐক্য ফাউন্ডেশনের সভাপতি শাহাবুদ্দীন ফরাজি বলেন, বাস্তবে ভোলায় সারের সংকট নেই। অথচ আশ্চর্যের বিষয় ভোলার কৃষকেরা সরকারি ভর্তুকির সার পাচ্ছেন না। ভোলা সদর উপজেলায় সার নিয়ে নৈরাজ্যের জন্য উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কামরুল হাসান সরাসরি জড়িত। যে কৃষকের ৫০ বস্তা সার দরকার, তাকে সরকারি ভর্তুকির সারের জন্য অনুমোদন দেওয়া হয় ১০ বস্তার। বাকি ৪০ বস্তা কৃষককে ডিলারের কাছ থেকে অতিরিক্ত দামে কিনতে হয়।
শাহাবুদ্দীন ফরাজি আরও বলেন, এ অতিরিক্ত দামের ভাগ নিশ্চয়ই কৃষি কর্মকর্তা পান। এছাড়া যেসব কৃষক অতিরিক্ত টাকা দিয়ে সার কেনেন, ডিলাররা তাদেরই ভর্তুকির ভালো সার দেন, না হলে দেওয়া হয় নষ্ট সার। আটক ২৯০ বস্তা সার উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার যোগসাজশ ছাড়া এখানে আনা কোনোভাবেই সম্ভব নয়। সার নিয়ে কারসাজির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে সরকারের কাছে কঠোর ব্যবস্থার দাবি জানাচ্ছি।
তবে এসব অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে দাবি করে ভোলা সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা (কৃষিবিদ) মো. কামরুল হাসান বলেন, প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, সারগুলো ভোলা সদর উপজেলা এবং বরিশালের আলিমাবাদ ইউনিয়নের বিচ্ছিন্ন চরাঞ্চলের কৃষকদের জন্য নেওয়া হচ্ছিল। বিভিন্ন চরে তরমুজ, ক্যাপসিকাম, চিচিঙ্গা ও শসা চাষের জন্য কৃষকেরা সারগুলো কিনেছেন বলে দাবি করা হচ্ছে। কোনো কৃষক বা ডিলার অবৈধভাবে কাগজপত্র তৈরি করে সার উত্তোলন করেছেন কি না, তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ভোলা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সজল কুমার দাস বলেন, আটকের পর সারগুলোর বৈধ কাগজপত্র পাওয়া যায়নি। সার উদ্ধার করে স্থানীয় একটি গোডাউনে রেখে সিলগালা করা হয়েছে। এ ঘটনায় তদন্ত চলছে। পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।