নিজের স্ত্রী নাঈমা জান্নাতের বিরুদ্ধে সাবেক ব্যক্তিগত সহকারী (পিএস) ইমরানের সঙ্গে পরকীয়া সম্পর্কের অভিযোগ তুলেছেন আলোচিত চরমোনাইপন্থী ইসলামি বক্তা মাওলানা হাবিবুর রহমান মিসবাহ।
সম্প্রতি এক পডকাস্টে অংশ নিয়ে তিনি এ অভিযোগ করেন। একই সঙ্গে ফেস দ্য পিপল-এর সাংবাদিক এস এম সাইফুল ইসলাম ও নাইম নামের আরও এক ব্যক্তির সঙ্গে নাঈমার নিয়মিত যোগাযোগ ছিল বলেও দাবি করেন তিনি।
পডকাস্টে মিসবাহ জানান, তার সাবেক ব্যক্তিগত সহকারী ইমরানের সঙ্গে নাঈমার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল। তাদের মধ্যে নিয়মিত মোবাইল ফোনে যোগাযোগ ও কথাবার্তা হতো। এমনকি ইমরানের সঙ্গে নাঈমার একাধিকবার দেখা করার অভিযোগও করেন তিনি। মিসবার দাবি, তিনি দেশের বাইরে থাকাকালে ইমরান তার স্ত্রীকে নিয়ে ৩০০ ফিট এলাকায় ঘুরতে গিয়েছিলেন এবং ফুল কেনার জন্যও বাইরে গিয়েছিলেন। বিষয়গুলো তার কাছ থেকে গোপন রাখা হয়েছিল বলে অভিযোগ করেন তিনি।
মিসবাহ আরও জানান, ফেস দ্য পিপল-এর সাংবাদিক এস এম সাইফুল ইসলামের সঙ্গেও নাঈমার নিয়মিত যোগাযোগ ছিল। তার দাবি, সাইফুল রাত ১২টার পরও নাঈমাকে ফোন করতেন। এ ছাড়া নাঈমার নতুন ফেসবুক আইডি ও বিভিন্ন পোস্ট শেয়ারের বিষয়েও তাদের যোগাযোগের প্রসঙ্গ তুলে ধরেন তিনি। মিসবাহর প্রশ্ন, সাংবাদিকতার প্রয়োজনে রাত ১২টার পর নাঈমাকে ফোন করার কারণ কী?
নাইম নামের আরেক ব্যক্তির সঙ্গেও নাঈমার সম্পর্ক ছিল বলে অভিযোগ করেন মিসবাহ। তার দাবি, ঢাকার খিলগাঁও-বনশ্রী এলাকায় নাঈমা যে বাসায় অবস্থান করতেন, সেটি ভাড়া করে দিতে ওই ব্যক্তির ভূমিকা ছিল। তাদের ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরের শেষের অঙ্কের মিল থাকার বিষয়টিও সন্দেহের কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।
প্রসঙ্গত, এর আগেও একাধিক বিয়ে, পরকীয়া ও দাম্পত্য বিরোধের অভিযোগে আলোচনায় আসেন হাবিবুর রহমান মিসবাহ ও নাঈমা জান্নাত। গত আগস্টে মিসবাহর বিরুদ্ধে যৌতুক নিরোধ আইনে মামলা করার খবর প্রকাশিত হয়। একই সময়ে নাঈমা অভিযোগ করেন, বিয়ের সময় মিসবাহ তার আগের বিয়ের তথ্য গোপন করেছিলেন এবং তার মোট বিয়ের সংখ্যা নয়টি।
তবে মিসবাহ এসব অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, নয়টি বিয়ের তথ্য মিথ্যা এবং নাঈমা তার বর্তমান দ্বিতীয় স্ত্রী। তিনি নিজের বিরুদ্ধে পরকীয়ার অভিযোগও অস্বীকার করেন।
পাল্টা বক্তব্যে নাঈমা দাবি করেন, মিসবাহর সঙ্গে তার বিয়েটি ছিল তার পঞ্চম বিয়ে। এ ছাড়া গত ছয় বছরে তাকে একাধিকবার অনৈতিক সম্পর্কে হাতেনাতে ধরেছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি। মিসবাহর দেওয়া মুবাহালার আহ্বানও গ্রহণ করার কথা জানান নাঈমা। এসব অভিযোগের বিষয়ে তখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দুজনের পাল্টাপাল্টি বক্তব্য প্রকাশিত হয়। এদিকে, গত ১ নভেম্বর মেহের আফরিন নামের এক নারী নিজেকে মিসবাহর ষষ্ঠ স্ত্রী দাবি করে প্রকাশ্যে আসেন। তবে মিসবাহ ওই অভিযোগ মিথ্যা বলে দাবি করেন।