রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার পর্যটন নগরী সাজেকে অনির্দিষ্টকালের অবরোধের মধ্যেই নতুন করে আরেকটি সংগঠনের ডাকে ৪৮ ঘণ্টার পাল্টা অবরোধ চলছে।
বুধবার (০৪ নভেম্বর) সকাল ৬টা থেকে পার্বত্য চট্টগ্রাম রক্ষা কমিটির নেতৃত্বে এ অবরোধ কর্মসূচি পালিত হচ্ছে।
অবরোধের সমর্থনে ভোর থেকে সংগঠনটির নেতাকর্মীরা সাজেক-দীঘিনালা সড়কে অবস্থান নিয়েছেন।
এর আগে মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সন্ধ্যায় সংগঠনটির সদস্য সচিব বিন্দু লাল চাকমা স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কর্মসূচির ঘোষণা দেওয়া হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, অবরোধের কারণে স্থানীয় জুমচাষিরা উৎপাদিত কৃষিপণ্য বাজারজাত করতে পারছেন না।
সংগঠনটির অভিযোগ, আঞ্চলিক সশস্ত্র দলগুলোর প্রভাব ও চাপের কারণে জুমচাষিদের অবরোধ কর্মসূচিতে অংশ নিতে বাধ্য করা হচ্ছে। আধিপত্য বিস্তার, চাঁদাবাজি, অপহরণ ও হত্যাকাণ্ডের মতো ঘটনায় পাহাড়ের স্বাভাবিক পরিস্থিতি ব্যাহত হচ্ছে বলেও বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।
এ অবস্থায় সাজেকসহ পার্বত্য চট্টগ্রামের সর্বস্তরের জনগণকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক উপায়ে অবরোধ কর্মসূচি সফল করার আহ্বান জানিয়েছে পার্বত্য চট্টগ্রাম রক্ষা কমিটি।
দাবি আদায় না হলে ভবিষ্যতে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছে সংগঠনটি।
এদিকে সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটি ও সাজেক কারবারি অ্যাসোসিয়েশনের ডাকে গত ২২ অক্টোবর থেকে তৃতীয় দফায় অনির্দিষ্টকালের অবরোধ চলছে। সাজেক থেকে সন্তু লারমার নেতৃত্বাধীন পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির (পিসিজেএসএস) সশস্ত্র সদস্যদের সরিয়ে নেওয়ার দাবিতে এ কর্মসূচি পালন করছে সংগঠন দুটি। তাদের অভিযোগ, এসব সশস্ত্র সদস্যের কারণে স্থানীয় বাসিন্দারা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
অবরোধের কারণে সাজেকের সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ ব্যাহত হচ্ছে। এতে খাদ্যসামগ্রী ও ওষুধের সংকট বাড়ছে, বন্ধ রয়েছে পর্যটন কার্যক্রমও। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে গত ২৬ অক্টোবর উজো বাজারে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে সরকারের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদলের বৈঠক হয়। পাঁচ দফা দাবির মধ্যে চারটি বিষয়ে সমঝোতা হলেও সশস্ত্র সদস্যদের সরিয়ে নেওয়ার বিষয়ে ঐকমত্য না হওয়ায় অবরোধ প্রত্যাহার করা হয়নি।
নিরাপত্তাজনিত পরিস্থিতির কারণে ২২ অক্টোবর থেকে সাজেক পর্যটন ভ্যালিতে পর্যটকদের ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা জারি রেখেছে রাঙামাটি জেলা প্রশাসন।