যে ঘর ছিল মাথা গোঁজার শেষ আশ্রয়, যে আসবাবপত্রের প্রতিটি কোণায় মিশে ছিল বছরের পর বছর ঘামঝরানো পরিশ্রম আর ছোট ছোট স্বপ্ন, মুহূর্তের আগুনে তার সবই আজ ছাই। চোখের সামনে দাউ দাউ করে জ্বলেছে নিজের সাজানো সংসার। অসহায়ের মতো দাঁড়িয়ে দেখা ছাড়া কিছুই করার ছিল না পরিবারের সদস্যদের। এক নিমেষেই নিঃস্ব হয়ে গেছে যশোরের দেয়াড়া ইউনিয়নের যুবদল নেতা বাবুল হোসেনের পরিবার।
সোমবার (২ নভেম্বর) সন্ধ্যার পর বাবুলের বসতবাড়িতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। মুহূর্তের মধ্যে আগুন ছড়িয়ে পড়ে ঘরের বিভিন্ন অংশে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। কিন্তু ততক্ষণে পুড়ে ছাই হয়ে যায় ঘরের আসবাবপত্রসহ মালামাল। যে সংসার তিল তিল করে গড়ে তুলেছিলেন বাবুল, সেই সংসারের স্মৃতিচিহ্নগুলোও আগুনের তাপে হারিয়ে যায়।
প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, রান্নাঘরের চুলা থেকে আগুনের সূত্রপাত হতে পারে। তবে স্থানীয়দের কেউ কেউ বলছেন, বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকেও আগুন লাগতে পারে। আগুনের প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
দেয়াড়া ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি সবুজ হোসেন জানান, হঠাৎ বাবুলের সন্তান ঘরের এক পাশে আগুন দেখতে পায়। বিপদ বুঝতে পেরে পরিবারের সদস্যরা দ্রুত বাইরে বেরিয়ে আসেন। এর মধ্যেই আগুন রান্নাঘরে থাকা গ্যাসের সিলিন্ডারের সংস্পর্শে আসে। মুহূর্তের মধ্যে আগুন ভয়াবহ আকার ধারণ করে। দাউ দাউ করে জ্বলতে থাকে ঘরের মালামাল।
তবে স্বস্তির বিষয়, এই ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে পরিবারের কারও শারীরিক ক্ষয়ক্ষতি হয়নি বলে নিশ্চিত করেছেন সবুজ হোসেন। প্রাণে বেঁচে গেলেও এক মুহূর্তের আগুনে হারিয়ে গেছে পরিবারের দীর্ঘদিনের কষ্টে গড়া সম্পদ।
এদিকে, অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে বাবুলের বাড়িতে ছুটে যান দেয়াড়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ও বিএনপি নেতা আশরাফুজ্জামান মিঠু। তিনি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন, তাঁদের খোঁজখবর নেন এবং এই দুঃসময়ে পাশে থাকার আশ্বাস দেন।
আগুন নিভেছে, কিন্তু রেখে গেছে এক পরিবারের বুকভরা হাহাকার। যেখানে ছিল সংসারের প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র, যেখানে সাজানো ছিল আগামী দিনের স্বপ্ন, সেখানে এখন পড়ে আছে শুধুই পোড়া মালামালের ধ্বংসাবশেষ।