শ্রমিকেরা কাজে না ফিরলে অনির্দিষ্টকালের জন্য কারখানা বন্ধের সিদ্ধান্ত মালিকদের

মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে চলমান শ্রমিক আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে নিম্নতম মজুরি বোর্ড গঠন করেছে সরকার। এরপরও শ্রমিকেরা কাজে না ফিরলে এবং আন্দোলনের নামে বিশৃঙ্খলা অব্যাহত থাকলে অনির্দিষ্টকালের জন্য পোশাক কারখানা বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তৈরি পোশাকশিল্পের মালিকেরা।

রবিবার (১ নভেম্বর) বিকেলে ঢাকার উত্তরায় বিজিএমইএর কার্যালয়ে সাধারণ সদস্যদের সাথে আয়োজিত জরুরি মতবিনিময় সভায় এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন সংগঠনটির সভাপতি মাহমুদ হাসান খান।

সভা শেষে বিজিএমইএ সভাপতি জানান, কিছু উদ্যোক্তা সোমবার থেকে কারখানা বন্ধ রাখার প্রস্তাব দিলেও অধিকাংশ মালিক উৎপাদন কার্যক্রম চালু রাখার পক্ষে মত দিয়েছেন। তবে ধারাবাহিকভাবে বিশৃঙ্খলা চলতে থাকলে কারখানা বন্ধের উদ্যোগ নেওয়া হতে পারে।

মাহমুদ হাসান খান বলেন, মজুরি বোর্ড গঠন নিয়ে শ্রমিকদের মধ্যে যে বিভ্রান্তি ছিল, তা দূর হয়েছে। এখন নতুন মজুরিকাঠামো চূড়ান্ত করার দায়িত্ব মজুরি বোর্ডের। এ জন্য সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সাথে আলোচনা করা হবে। বোর্ড গঠনের পর শ্রমিকেরা শান্তিপূর্ণভাবে কাজে ফিরবেন বলে প্রত্যাশা মালিকদের।

তিনি আরও বলেন, মজুরি বোর্ড গঠনের পরও আন্দোলনের নামে বিশৃঙ্খলা হলে মালিকেরা বিষয়টিকে ভিন্ন উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে মনে করবেন।

এদিকে মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে রবিবার রাজধানীর মিরপুর, সাভারের আশুলিয়া এবং গাজীপুরের বিভিন্ন শিল্প এলাকায় বিক্ষোভ করেন পোশাকশ্রমিকেরা। আন্দোলন চলাকালে সড়ক অবরোধ, পুলিশের সাথে সংঘর্ষ এবং পুলিশ বক্স ও পুলিশের গাড়িতে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতির কারণে মিরপুরে সাময়িকভাবে তিনটি মেট্রোরেল স্টেশনের কার্যক্রমও বন্ধ রাখা হয়।

বিজিএমইএর তথ্য অনুযায়ী, এদিন ঢাকা, গাজীপুর, ময়মনসিংহ, সাভারের আশুলিয়া ও জিরানী এলাকায় মোট ৫২৯টি কারখানার শ্রমিকেরা কাজ না করে বের হয়ে যান। এর মধ্যে মিরপুর এলাকার ৬৮টি, গাজীপুর ও ময়মনসিংহ এলাকার ২৭৬টি এবং আশুলিয়া ও জিরানী এলাকার ১৮৫টি কারখানা রয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *