তৈরি পোশাক শিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএর বরাত দিয়ে বণিক বার্তা জানায়, মিরপুর, গাজীপুর-ময়মনসিংহ ও সাভার-আশুলিয়া অঞ্চলে সংগঠনটির আওতাধীন দুই হাজার ১৩৪টি কারখানার মধ্যে রবিবার সচল ছিল এক হাজার ৮১৬টি। তবে শ্রম অসন্তোষের কারণে বিকেল সাড়ে ৩টা পর্যন্ত ৫২৯টি কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয়।
গাজীপুর ও ময়মনসিংহে ২৭৬টি কারখানার ছয় লাখ ৪৫ হাজার ৩৬০ শ্রমিক এবং সাভার, আশুলিয়া ও জিরানী এলাকায় ১৮৫টি কারখানার দুই লাখ ৯০ হাজার ২০৫ শ্রমিক কর্মস্থল ত্যাগ করেন।
বিকেলে বিজিএমইএ কমপ্লেক্সে সদস্য কারখানার মালিকদের বৈঠকে উৎপাদন পরিস্থিতি ও কারখানা চালু রাখার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়। এতে ২৫০ জনের বেশি প্রতিনিধি অংশ নেন, যারা প্রায় ৭০০ কারখানার প্রতিনিধিত্ব করেন।
এ বিষয়ে বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বলেন, সব কারখানা চালু রাখার চেষ্টা করছেন মালিকরা।
এদিকে পোশাক শ্রমিকদের নিম্নতম মজুরি পুনর্নির্ধারণে ছয় সদস্যের মজুরি বোর্ড গঠন করেছে সরকার। বোর্ডের চেয়ারম্যান করা হয়েছে সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ শেখ আশফাকুর রহমানকে। এতে মালিক ও শ্রমিক পক্ষের প্রতিনিধি ছাড়াও নিরপেক্ষ সদস্য হিসেবে রয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগের অধ্যাপক মোসলেহ উদ্দিন আহমেদ।
এর আগে রবিবার সংবাদ সম্মেলনে শ্রমমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, শ্রমিকদের দীর্ঘদিনের দাবি বিবেচনায় নিয়ে তাদের প্রতিনিধিদের অন্তর্ভুক্ত করে বোর্ড গঠন করা হয়েছে। দ্রুত আলোচনা ও পর্যালোচনার মাধ্যমে উপযুক্ত মজুরি নির্ধারণ করা হবে। একই সঙ্গে শ্রমিকদের আন্দোলন ছেড়ে কাজে ফেরার আহ্বান জানান তিনি।
শ্রম অসন্তোষের মধ্যে মিরপুর, গাজীপুরের কালিয়াকৈর, সাভার ও আশুলিয়ায় বিক্ষোভ, অবরোধ এবং গাড়িতে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন শিল্প মালিকরা।
সন্ধ্যার বৈঠক শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়ন ও স্বার্থরক্ষার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। একই সঙ্গে শিল্পের উৎপাদন ও রপ্তানি যাতে ব্যাহত না হয়, সে বিষয়েও পদক্ষেপ নিতে বলা হয়েছে।
তিনি বলেন, সহিংসতা ও বিশৃঙ্খলার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তাঁর দাবি, নিরীহ শ্রমিকদের ব্যবহার করে সীমান্তের ওপার থেকে অস্থিতিশীলতা তৈরির ইন্ধন দেওয়া হচ্ছে। এ ধরনের অপতৎপরতা কঠোরভাবে মোকাবেলা করা হবে।
শ্রম অসন্তোষের প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছেন পোশাক শিল্পের উদ্যোক্তারা। স্প্যারো গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শোভন ইসলাম বলেন, একসঙ্গে ৫২৯টি কারখানা উৎপাদন থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ায় দেশের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। সময়মতো পণ্য জাহাজীকরণ নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে।
শিল্প মালিকদের মতে, শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি সমন্বয়ের প্রয়োজন রয়েছে। তবে এ বিষয়ে সিদ্ধান্তে পৌঁছতে গঠনমূলক সংলাপ ও পারস্পরিক সমঝোতা জরুরি। শ্রমিকদের যৌক্তিক দাবির পাশাপাশি সহিংসতা ও নাশকতা বন্ধ না হলে শিল্পের স্থিতিশীলতা এবং লাখ লাখো শ্রমিকের জীবন-জীবিকা ঝুঁকিতে পড়তে পারে।