যশোরের শার্শা উপজেলার বাগআঁচড়ায় এক কলেজছাত্রীকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন, যৌন হয়রানি, পৈতৃক জমি দখলের চেষ্টা এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তির বিরুদ্ধে। এসব ঘটনায় নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী কলেজছাত্রী কাজল রেখা। রোববার প্রেসক্লাব যশোরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে এসব অভিযোগ তুলে ধরেন তিনি। এ সময় তার মা মাজেদা উপস্থিত ছিলেন। সংবাদ সম্মেলনে শার্শা উপজেলার বাগআঁচড়ার ইমন হোসেন (২৬), আলী আহমদ (৫৫) ও মো. আবু হোসেনকে অভিযুক্ত করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, অভিযুক্তরা নেশার ঘোরে তার শরীরটা খুবলে খেয়ে ফেলতে চায়।
সংবাদ সম্মেলনে কাজল রেখা জানান, তিনি শার্শা উপজেলার বাগআঁচড়া গ্রামের মৃত জালাল হোসেনের মেয়ে। বাবার মৃত্যুর পর থেকেই নানা প্রতিকূলতার মধ্যে পড়াশোনা চালিয়ে যাচ্ছেন। এর মধ্যে স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তির নির্যাতন ও হুমকির কারণে তিনি ও তার পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
তিনি অভিযোগ করেন, স্থানীয় একটি মাদকসেবী চক্রের কয়েকজন সদস্য দীর্ঘদিন ধরে তাকে উত্ত্যক্ত, শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন এবং যৌন হয়রানি করে আসছেন। পাশাপাশি তাদের পৈতৃক জমি দখলের চেষ্টা এবং বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি দেখিয়ে পরিবারটিকে গ্রামছাড়া করার ষড়যন্ত্র চলছে বলেও দাবি করেন তিনি।
লিখিত বক্তব্যে কাজল রেখা উল্লেখ করেন, গত ২৮ অক্টোবর সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বাজারে যাওয়ার পথে আলী আহমদের নেতৃত্বে কয়েকজন ব্যক্তি তার পথরোধ করেন। এ সময় তাকে জোরপূর্বক আটকে রেখে ভয়ভীতি ও হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। একই সঙ্গে ইমন হোসেনের বিরুদ্ধেও বিভিন্ন সময়ে উত্ত্যক্ত ও শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ তোলেন।
কাজল রেখা জানান, এসব ঘটনার বিষয়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের অবহিত করেছেন। সর্বশেষ ২৮ অক্টোবর ইমন হোসেনকে প্রধান অভিযুক্ত করে শার্শা থানায় লিখিত অভিযোগ দেন। তবে এখনো কার্যকর কোনো প্রতিকার পাননি বলে দাবি তাঁর। উল্টো অভিযুক্তদের হুমকি ও হয়রানির কারণে পরিবারের নিরাপত্তাহীনতা আরও বেড়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, বাবাহীন পরিবারের অসহায়ত্বের সুযোগ নিয়ে কেউ যেন তাদের জীবন ও ভবিষ্যৎ নষ্ট করতে না পারে। এ জন্য প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি।