হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টধর্মকেও রাষ্ট্রধর্ম করার সুপারিশ ঐক্য পরিষদের

সংবিধানে রাষ্ট্রের চার মূলনীতি বহাল এবং ইসলামের পাশাপাশি হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টধর্মকে রাষ্ট্রধর্ম হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার সুপারিশ করেছে বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ।

আজ বুধবার সন্ধ্যায় সংবিধান সংশোধনে গঠিত বিশেষ কমিটির সভাপতি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের কাছে ই-মেইলে একগুচ্ছ সুপারিশ পাঠিয়েছে পরিষদটি।

সুপারিশে সংবিধান থেকে ধর্মীয় ও জাতিগত বৈষম্য দূর করার আহ্বান জানানো হয়েছে। একইসঙ্গে জনসংখ্যার অনুপাতে সংসদ ও সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে সংখ্যালঘুদের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করারও সুপারিশ করেছে ঐক্য পরিষদ।

সুপারিশগুলোতে যৌথভাবে সই করেছেন ঐক্য পরিষদের তিন ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী, সাবেক সংসদ সদস্য ঊষাতন তালুকদার ও নির্মল রোজারিও এবং ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মনীন্দ্র কুমার নাথ।

ঐক্য পরিষদ জানায়, সংবিধান সংস্কার নিয়ে অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনায় অংশ নেওয়ার আমন্ত্রণ না পাওয়ায় সংগঠনটির নির্বাহী কমিটি ৮ অক্টোবর এক সভায় সুপারিশগুলো গ্রহণ করে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে পাঠানো ই-মেইলে বলা হয়, আমরা ইতোমধ্যে লক্ষ করেছি, আপনার নেতৃত্বে গঠিত বিশেষ সংসদীয় কমিটি সংবিধান সংশোধনের বিষয়ে সুপারিশ পেতে বিভিন্ন অংশীজনের সঙ্গে আলোচনা শুরু করেছে। আলোচনায় অংশ নেওয়ার আমন্ত্রণ না পাওয়ায় ঐক্য পরিষদের নির্বাহী কমিটি বিবেচনার জন্য সরাসরি কমিটির সভাপতির কাছে সুপারিশগুলো পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেয়।

আইনের শাসন, মৌলিক মানবাধিকার ও রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক সাম্য, স্বাধীনতা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে সংবিধানের চার মূলনীতি—জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতা—বহাল রাখার আহ্বান জানিয়েছে ঐক্য পরিষদ।

 

এছাড়া বৈষম্যহীন, মানবিক ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গড়ে তুলতে বিদ্যমান সংবিধান থেকে ধর্মীয় ও জাতিগত বৈষম্য দূর করতে উদ্যোগ নেওয়ারও সুপারিশ করা হয়েছে।

প্রয়োজনে সংবিধানের ২ক অনুচ্ছেদ সংশোধন করে ইসলামের পাশাপাশি হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টধর্মকে রাষ্ট্রধর্ম হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব দিয়েছে পরিষদটি। ওই অনুচ্ছেদে ইসলামকে রাষ্ট্রধর্ম ঘোষণা করা হয়েছে।

৮ অক্টোবরের সভায় গৃহীত আরেকটি প্রস্তাবে ঐক্য পরিষদ জাতীয় সংসদ এবং বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন ও সরকারি কর্ম কমিশনসহ সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের আনুপাতিক প্রতিনিধিত্বের দাবি জানিয়েছে।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *