কারাগারে বাবা, মায়ের মৃত্যু: চার সন্তানের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত

শ্রীমৎ চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীর মামলাকে কেন্দ্র করে প্রায় পাঁচ মাস আগে হরিজন সম্প্রদায়ের লালা দাশকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল বলে দাবি করেছে তাঁর পরিবার। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি কারাগারে থাকায় দীর্ঘদিন ধরে চরম আর্থিক সংকটে দিন কাটাচ্ছিল পরিবারটি।

লালা দাশের পরিবারে রয়েছে চার সন্তান—দুই কন্যা ও দুই পুত্র। দুই মেয়ের বয়স আনুমানিক ৫ ও ৭ বছর এবং দুই ছেলের বয়স প্রায় ১৫ ও ১৮ বছর।

পরিবারের সদস্যদের দাবি, স্বামী কারাগারে থাকায় সংসারের আয়ের পথ বন্ধ হয়ে যায়। আর্থিক সংকটের পাশাপাশি স্বামীর মুক্তির অপেক্ষায় মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন লালা দাশের স্ত্রী ছবি রানী দাশ। পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গতকাল সন্ধ্যা আনুমানিক ৮টার দিকে তিনি মারা যান।

মায়ের মৃত্যুর পর চার সন্তান এখন আরও অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে। একদিকে বাবা কারাগারে, অন্যদিকে মা নেই—ফলে তাদের দেখভাল ও ভবিষ্যৎ নিয়ে পরিবারে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

লালা দাশের পরিবারের পক্ষ থেকে তাঁর মুক্তি ও ন্যায়বিচারের দাবি জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে তারা প্রশ্ন তুলেছে, পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি দীর্ঘদিন কারাগারে থাকায় যে সংকট তৈরি হয়েছে এবং মায়ের মৃত্যুর পর যে চার সন্তান অভিভাবকহীন পরিস্থিতিতে পড়েছে, তাদের দায়িত্ব কে নেবে?

পরিবারের অভিযোগ, কেউ অপরাধী হলে অবশ্যই আইনের আওতায় তাঁর বিচার হওয়া উচিত। তবে কোনো নিরপরাধ ব্যক্তি যেন রাজনৈতিক প্রতিহিংসা, হয়রানি বা অন্যায় মামলার শিকার না হন—এমন দাবিও জানিয়েছেন তারা।

চার সন্তানের ভবিষ্যৎ, পরিবারের আর্থিক সংকট এবং লালা দাশের মামলার বিষয়ে দ্রুত ন্যায়সংগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *