সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জে নৌকাবাইচ আয়োজনকে কেন্দ্র করে পূর্ব বীরগাঁও ইউনিয়নের বীরগাঁও ও ধলমৈশা গ্রামবাসীর মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে। নৌকাবাইচের পক্ষে-বিপক্ষে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে পোস্টের মাধ্যমে হুমকি-ধামকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
রোববার (১৩ নভেম্বর) সম্ভাব্য সংঘাতের আশঙ্কায় নৌকাবাইচ বন্ধের দাবি জানিয়ে শান্তিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বরাবর লিখিত আবেদন করেছেন পূর্ব বীরগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান রুজেল আহমদ। এইদিন বিকেলে এই আবেদন করেন তিনি। আবেদনের অনুলিপি শান্তিগঞ্জ থানার ওসির কাছেও পাঠিয়েছেন বলে জানিয়েছেন রুজেল আহমদ।
স্থানীয় জানান, পূর্ব বীরগাঁও ইউনিয়ন পরিষদকে অবগত না করেই আগামী বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) ইউনিয়নের ধলমৈশা গ্রামের দক্ষিণে খাই হাওরে নৌকাবাইচের উদ্যোগ নিয়েছেন একই গ্রামের যুক্তরাজ্য প্রবাসী আবুল হোসেন। ইউনিয়ন পরিষদকে এড়িয়ে এমন একটি বড় আয়োজনের উদ্যোগ গ্রহণ করায় এলাকায় বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। এ নিয়ে ফেসবুকে বিভিন্ন পোস্টকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। তাই অবিলম্বে নৌকাবাইচ বন্ধ করা না হলে গ্রামকেন্দ্রিক সংঘাত সৃষ্টি হতে পারে।
নৌকাবাইচের আয়োজক আবুল হোসেনের ভাই আলী হোসেন জানান, বিগত বছরেও পাঁচ গ্রামের সমন্বয়ে নৌকাবাইচ সফলভাবে আয়োজন করা হয়েছে। এখানে বীরগাঁও গ্রামের কোনো বিষয় নেই। গত বছরও তারা একই ধরনের বিতর্ক সৃষ্টির চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছেন। আমরা সফলভাবে নৌকাবাইচ সম্পন্ন করেছি। এ বছরও নৌকাবাইচ সফল করতে পাঁচ গ্রামের মানুষ কাজ করছি। নৌকাবাইচ ঘিরে সংঘাতের কোনো আশঙ্কা নেই। যারা বিতর্ক করছেন এটা তাদের মাঝেই সীমাবদ্ধ।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হিল্লোল চাকমা বলেন, ‘আমি দিনের বেলা জেলায় মিটিংয়ে থাকায় অভিযোগপত্র হাতে পাইনি। তবে প্যানেল চেয়ারম্যান আমাকে ফোন করে বিষয়টি অবগত করেছেন। আমি লিখিত অভিযোগ দিতে বলেছি। ওসি সাহেবের কাছেও এই অভিযোগটা আছে। তার সঙ্গেও আলাপ করেছি। এই বিষয়ে উভয়পক্ষের কথা শুনব। এ ধরনের প্রোগ্রামে যদি শান্তি-শৃঙ্খলা বিঘ্নিত হয় তাহলে এ ধরনের প্রোগ্রামের অনুমতি দেওয়ার সুযোগ নেই। নৌকাবাইচ একটি ঐতিহ্যবাহী বিষয়। তাই বিষয়টি নিয়ে আমরা কাজ করব।’